পূর্ব লাদাখের গ্যালওয়ানসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সোমবার রাতে চিনা সেনা বাহিনীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ভারতের এক সেনা আধিকারিক  ও দুই জওয়ানের শহিদ হয়েছেন। মৃতরা হলেন কর্নেল বি সন্তোষ বাবু, হাবিল্দার পালানি ও সিপো ওঝা। চিনের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে তাদেরও পাঁচ সেনার মৃত্যু হয়েছে হাতাহাতিতে।   তবে এই ঘটনার সামনে আসার পরই রীতিমত তৎপরতা দেখা যায় নর্থ ব্লকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিপিন রাওয়াত ও বিদেশ মন্ত্রী এস জয়ঙ্কের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজনাথ বৈঠেক করেন তিন সেনা প্রধানের সঙ্গেও। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর , প্রধানমন্ত্রীকে পুরো ঘটনা তিনি জানিয়েছেন।  বিদেশ মন্ত্রকের তরফে থেকেও বার্তা দিয়ে জানান হয়েছে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রতি দায়িত্বশীল ভারত। চিনের পক্ষ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থিতিশীল অবস্থার পরিবর্তনের জন্যও চিনকে দায়ি করা হয়েছে । দুই দেশের মধ্যে হওয়া উচ্চ পর্যায়ের চুক্তি অনুসরণ করলে এই হিংসা এড়ানো যেত। 

সুত্রের খবর চিনের উপ বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে চিনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিস্রি বেজিং-এর বৈঠক করেছেন। সব মিলিতে লাদাখ সীমাত্রে উত্তেজনা প্রশমনে দুই দেশই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সূত্রের খবর। 

তবে লাদাখ সীমান্তের উত্তেজনা নিয়ে হাত গুটিয়ে বসে নেই বিরোধী পক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যখন তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার তখন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়া দেশের শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি বলেছেন, 'আমাদের দেশের জন্য যাঁরা জীবন দিয়ে আত্মত্যাগ করছে সেই আধিকারিক ও সেনা কর্মীদের জন্য বড়ই বেদনার্থ, শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।' কঠিন এই সময় শহিদ জওয়ানদের পাশে থাকারও অঙ্গিকার করেছেন তিনি। 

লাদাখ সীমান্তের সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করেছেন বিজেপি নেতা জেপি নাড্ডা। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অখণ্ড ও ঐক্যবদ্ধ থাকবে গোটা দেশ।