তিনি বিজেপি-র সাংসদ। লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা করার সিদ্ধান্তে যে তাঁর সমর্থন থাকবে, তা প্রত্যাশিতরই। কিন্তু লাদাখের তরুণ বিজেপি সাংসদ জামইয়াং শেরিং নামগয়াল মঙ্গলবার সংসদে নিজের ধারালো বক্তব্যে যেভাবে কংগ্রেস এবং কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলিকে একহাত নিলেন বিজেপি সাংসদ, তাতে মুগ্ধ খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। 

লাদাখের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পৃথক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার। সেই দাবি পূরণ হয়েছে। এ দিন তার সমর্থনে এবং ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে লাদাখের সাংসদ কংগ্রেস নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, '২০০২ সালে কাশ্মীর উপত্যকা এবং জম্মু আটটি নতুন জেলা পেলেও কেন লাদাখ একটিও জেলা পায়নি? কেন লাদাখবাসীর নিজস্ব ভাষা ভোধি বা ভোটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এতদিন? এর পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, লাদাখে বৌদ্ধ এবং মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক লড়াই বাধিয়ে দিয়ে ৩৭০ ধারার অপব্যবহার করা হয়েছে এতদিন। যে কারণে লাদাখে বৌদ্ধ জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপি সাংসদ দাবি করেন, লাদাখকে পৃথক করার সিদ্ধান্তে কার্গিলের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলার বাসিন্দাদের অধিকাংশই খুশি। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের থেকে গোটা রাজ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও এতদিন সেই টাকা থেকে জম্মু কাশ্মীরের রাজ্য সরকার লাদাখের কোনও উন্নয়ন করেনি বলেও সরব হন তিনি। কংগ্রেস সাংসদরা প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি বলেন, 'আপনারা চুপ করে বসুন, আজকে আমার বলার দিন।' তাঁর দাবি একাত্তর বছর ধরে লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্বীকৃতির জন্য লড়ছিল, দেশের অভিন্ন অংশ হতে চাইছিল। 

আরও পড়ুন- লোকসভাতেও পাশ কাশ্মীর বিল, কংগ্রেস ধাক্কা দিয়ে সমর্থন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার

কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে চৌত্রিশ বছর বয়সি সাংসদ বলেন, 'এই সিদ্ধান্তে কাদের ক্ষতি হবে? শুধু দুটো পরিবারের রুটি, রুজি বন্ধ হবে। আর কাশ্নীরের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। লাদাখ যদি আজকে অনুন্নত অবস্থায় থাকে, তার জন্য ৩৭০ ধারা এবং কংগ্রেস দল দায়ী।'

লাদাখের তরুণ সাংসদের এই বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে থাকেন বিজেপি সাংসদরা। হাসি ফোটে অমিত শাহের মুখে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইটারে লেখেন, 'লাদাখ থেকে আসা আমার তরুণ সতীর্থ জামইয়াং শেরিং নামগয়াল সংসদে অসাধারণ বক্তব্য পেশ করলেন। তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাদাখের ভাইবোনদের মনের কথাটা তুলে ধরেছেন! সবার এই ভাষণ শোনা উচিত।'