'লাভ জিহাদ' রুখতে একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে তৈরি হচ্ছে আইন। মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যে আইনের খসড়া তৈরি হয়ে গিয়েছে। কথা চলছে কর্নাটকের মতো আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে। বেশিরভাগ রাজ্যেই ধর্ম পরিবর্তন করে বিবাহ করতে গেলে আগে থেকে নোটিশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিজেপি শাসিত আরেক রাজ্য অসম অবশ্য এই বিষয়ে আরও কড়া হতে চলেছে। উত্তর পূর্বের এই রাজ্যে যে আইন আসতে চলেছে, তাতে শুধু ধর্মই নয়, বিয়ের আগে পুরুষদের জানাতে হবে আরও বেশ কিছু তথ্য।

অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা সোমবার জানিয়েছেন রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা শুরু করেছে। সেই আইন অনুযায়ী বিবাহের আগে পুরুষদের শুধু তাঁদের ধর্ম সম্পর্কে তথ্য জানালেই চলবে না, হবু স্ত্রীদের কাছে তাঁদের চাকরি এবং উপার্জন সম্পর্কেও সব তথ্য জানাতে হবে। আর এই আইন শুধু যে ধর্ম পরিবর্তন করে বিবাহের ক্ষেত্রেই প্রযুক্ত হবে তা নয়, প্রস্তাবিত বিলটি রাজ্যের সমস্ত বিবাহের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। এতে করে রাজ্য নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আরও একধাপ অগ্রসর হবে বলে আশা করছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।

আরও পড়ুন - ডিসেম্বর পড়লেও শীত এল না কলকাতায়, সপ্তাহান্তে আরও চড়বে পারদ

আরও পড়ুন - ৫০০-র মধ্যে শুধু ৩২টি সংগঠন ডাক পেল সরকারের, ক্ষুব্ধ কৃষকরা আদৌ যোগ দেবেন তো

আরও পড়ুন - একদিনেই নতুন সংক্রমণ কমল ২০ শতাংশ, বেড়েই চলেছে সুস্থতার হার - ভারতে ক্রমে দুর্বল করোনা

হিমান্তবিশ্ব শর্মা অবশ্য এই আইনের সঙ্গে 'লাভ জিহাদ'-এর কোনও সম্পর্কে নেই বলেই দাবি করেছেন। কারণ, এই আইনে শুধু ধর্ম সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের কথাই বলা হয়নি, আয় এবং চাকরি সংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করতে বলা হয়েছে এবং এটি সকল ধর্মের জন্যই বাধ্যতামূলক হবে। এই বিষয়ে মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশে সম্প্রতি যে আইনগুলি পাস করা হয়েছে বা যে আইনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তার থেকে অসমের আইনটি অনেকটাই আলাদা হবে। কারণ, অসম সরকার মনে করে, ধর্মের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, কারোর জীবিকা এবং উপার্জন।

তিনি বলেছেন, বিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা উচিত। নিজেদের মধ্যে এই স্বচ্ছতা না থাকলে বিয়েই করা উচিত নয়, বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিজেপি মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই অসম সরকার এই আইনের বিষয়ে খসড়া তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছে, বিবাহের আগে হবু স্ত্রীদের দেওয়া একটি তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত ফর্ম দেওয়া হবে। হবু স্ত্রীরা সেই ফর্ম তাঁদের হবু স্বামীদের দেবেন। হবু স্বামীদের কাজ হবে, সেটি পূরণ করে স্ত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া। এই প্রস্তাবিত আইনটি নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সহায়ক হবে বলেও দাবি করেছেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা।