অবসরের দিন এগিয়ে আসছে সেনা প্রধান বিপিন রাওয়াত-এর। এই মাসের শেষেই অর্থাৎ আগামী ৩১ ডিসেম্বর সেনা প্রধান হিসেবে অবসর নেবেমন তিনি। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর পর এই পদে বসতে চলেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল নারাভানে বর্তমানে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।

আরও পড়ুন - ২২ বছরেই আইপিএস, দেশের সবচেয়ে তরুণ পুলিশ অফিসার হয়ে নজির গড়লেন হাসান

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপ-প্রধানের দায়িত্ব নেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল নারভানে। তার আগে সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন। চিনের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের দেখাশোনা দায়িত্ব এই পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডেরই। তবে শুধু এই গুরু দায়িত্বই নয়, ৩৭ বছররের চাকরি জীবনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নারাভানে জম্মু ও কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে শান্তিরক্ষা থেকে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বহু কমান্ডে কাজ করেছেন।

আরও দেখুন -ভূস্বর্গে পালিত হল বিজয় দিবস, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ লেফট্যানেন্ট জেনারেল ধিঁলোর

একদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ব্যাটালিয়ন-এর কমান্ডিং অফিসার ছিলেন, আবার পূর্বাঞ্চলে পদাতিক বাহিনীরও নেতৃত্ব দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় ভারতের পিস কিপিং ফোর্সেরও অংশ ছিলেন এবং তিন বছর মায়ানমারে ভারতীয় দূতাবাসে ভারতের প্রতিরক্ষা আধিকারিক হিসাবে কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন - পুলিশের গুলিতে মরেনি একজনও, কাশ্মীর থেকে সেনা সরছে অসমে
 
লেফটেন্যান্ট জেনারেল নারাভানে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমী এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমির প্রাক্তন ছাত্র। ১৯৮০ সালে পাস করার পর তাকে শিখ লাইট ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সপ্তম ব্যাটেলিয়নে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তারপর থেকে তাঁকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। জম্মু ও কাশ্মীরে তাঁর ব্যাটালিয়নে অসামান্য নেতৃত্ব দানের জন্য 'সেনা পদক' (বিশিষ্ট) পেয়েছেন। নাগাল্যান্ডে অসম রাইফেলস (উত্তর)-এর ইন্সপেক্টর জেনারেল হিসেবে কাজের জন্য 'বিশিষ্ট সেবা পদক' এবং স্ট্রাইক কর্পস-এর কমান্ডার হিসেবে 'অতি বিশিষ্ট সেবা পদক' পেয়েছেন।

আরও পড়ুন - এই কি মোদীর সেনা-ভালোবাসা, বন্ধ হল সিআরপিএফ-এর রেশন, বিভিন্ন প্রা্ন্তে আতঙ্কিত সদস্যরা

তবে সেনাপ্রধান হিসেবে তাঁর সামনের রাস্তাটা বেশ কঠিন। সবচেয়ে বড় বিষয় বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির বেহাল অবস্থায় সামরিক খাতে সরকারি বরাদ্দ কমতে চলেছে। কাজেই এই অবস্থায় সেনাবাহিনীকে পরিচালনা করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। আসা করা হচ্ছে এর আগের বিভিন্ন দায়িত্বে তিনি যে উজ্জ্বল ভূমিকা নিয়েছেন, সেনাপ্রধান হিসেবেও তাঁর সেই ভূমিকা দেখা যেতে পারে।