উত্তরপ্রদেশ জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। এর মধ্যেই লখনউতে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে শহরের প্রধান ট্র্যাফিক মোড়গুলিতে সবুজ শেড, কুলিং শাওয়ার এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে লখনউ পুলিশ ও পৌরসভা। এই উদ্যোগে খুশি পথচারী থেকে শুরু করে গাড়িচালকরা।
গোটা উত্তরপ্রদেশ যেন তীব্র গরমে পুড়ছে। এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মধ্যে লখনউ পুলিশ এবং লখনউ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এক দারুণ মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে। শহরের প্রধান ট্র্যাফিক মোড়গুলিতে পথচারীদের স্বস্তি দিতে সবুজ রঙের সানশেড, কুলিং শাওয়ার, ওয়াটার স্প্রে এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, রবিবার লখনউয়ের তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। এই গনগনে আঁচ থেকে পথচারী, রিকশাচালক, সাইকেল আরোহী এবং প্রতিদিন যাতায়াত করা সাধারণ মানুষকে বাঁচাতেই এই উদ্যোগ।

পথচারীদের জন্য ব্যবস্থা
এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লখনউয়ের মেয়র সুষমা খড়কওয়াল বলেন, ভরদুপুরে যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন, তাদের এই চরম আবহাওয়া থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়ার জন্য পৌরসভা সবরকম চেষ্টা করছে। খড়কওয়াল বলেন, "তাপপ্রবাহের মোকাবিলায় আমরা শহরের মোড়গুলিতে, যেখানে সিগন্যাল রয়েছে, সেখানে সবুজ চাদর লাগিয়েছি। সিগন্যাল চালু থাকলে রিকশাচালক, সাইকেল আরোহী এবং পথচারীদের ওখানে দাঁড়াতে হয়। গরম থেকে তাদের বাঁচাতে আমরা সবুজ শেড এবং শাওয়ারের ব্যবস্থা করেছি।" তিনি আরও জানান যে শহরের বিভিন্ন জায়গায় কুলিং পয়েন্ট এবং পানীয় জলের স্টেশনও তৈরি করা হয়েছে। মেয়র বলেন, "আমরা বিভিন্ন জায়গায় কুলিং পয়েন্ট এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছি। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সবরকম চেষ্টা করছে যাতে কোথাও কোনও অভাব না থাকে।"
স্বস্তি দিতে এগিয়ে প্রশাসন
প্রশাসনের এই উদ্যোগে দারুণ খুশি সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কাটান। ট্যাক্সিচালক চন্দ্রশেখর বলেন, এই অস্থায়ী ব্যবস্থাটি সারাদিন রোদে থাকা মানুষদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। তিনি এএনআই-কে বলেন, "এতে খুব আরাম হচ্ছে। এর জন্য গরমটা ততটা অসহ্য লাগছে না। যারা মেট্রোতে যাতায়াত করেন, তারাও কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। আমরা তো অটো চালাই, সারাদিন রোদে পুড়ে কাজ করি। মেট্রো যাত্রী এবং কোচিংয়ের ছাত্রছাত্রীরাও এর থেকে উপকৃত হবে।" রিতিকা নামে এক পথচারীও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, "এটা সত্যিই একটা বড় স্বস্তি।
তাপপ্রবাহের কারণে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে যান বা মাথা ঘুরে পড়ে যান। সানস্ট্রোকের মতো রোগও হতে পারে। এই শেডগুলো লাগানো খুব ভালো হয়েছে, কারণ সিগন্যালে দাঁড়ালে মানুষ এর নিচে একটু বিশ্রাম নিতে পারবে।" এদিকে, আইএমডি সতর্ক করেছে যে উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েকটি জেলায়, বিশেষ করে রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে, তাপপ্রবাহ থেকে তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।


