লখনউতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF) জানিয়েছে, বিল্ডিংয়ের ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে মোটা দেওয়াল কেটে দুটো বড় গর্ত করতে হয়েছিল তাদের। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যু এবং আরও অনেকে আহত হওয়ার ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার লখনউ জোনের এডিজি প্রবীণ কুমার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই দলটি গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমানে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দেওয়াল ভেঙে উদ্ধার

মঙ্গলবার স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF) জানিয়েছে, এই উদ্ধার অভিযানের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ছিল। আগুন লাগার পর তা দ্রুত গোটা বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভেতরে অনেকেই আটকা পড়েন। আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোর জন্য SDRF জওয়ানরা একটি দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেন। তারা বিল্ডিংয়ের বাইরের মোটা দেওয়াল কেটে দুটো বড় গর্ত তৈরি করেন। এই পথেই ভেতরে ঢুকে উদ্ধারকাজ চালানো হয়। দমকলকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আগুনের তীব্রতা এবং বিল্ডিংয়ের গঠন। ঘন, বিষাক্ত ধোঁয়ায় উপরের তলাগুলো ভরে গিয়েছিল। তাই দমকল আধিকারিকরা বিকল্প পথ তৈরির জন্য বিল্ডিংয়ের দেওয়াল ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন।

এই পদক্ষেপে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, আগুনের গতি এত বেশি ছিল যে উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর আগেই অনেকের মৃত্যু হয়। স্থানীয় প্রশাসন এবং ফরেনসিক দল এখন ঘটনাস্থলে রয়েছে। তারা গোটা এলাকা খতিয়ে দেখছে এবং আগুনের কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে। এর আগে, উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানিয়েছিলেন, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, "গত রাত থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কয়েকজন আধিকারিককে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। সিট (SIT) রিপোর্টের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কাউকে ছাড়া হবে না।"

বিল্ডিং সিল

এদিকে, লখনউ পুলিশ আলিগঞ্জ থানা এলাকার ওই বিল্ডিংটি সিল করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফরেনসিক এবং দমকল বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। পুলিশ আলিগঞ্জ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১১০, ১০৫, ১২৫ এবং ৩(৫) ধারায় এবং উত্তরপ্রদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যাক্টের ৬ ও ১০ নম্বর ধারায় ছয়জন অভিযুক্ত এবং অন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। কংগ্রেস সাংসদ জেবি মাথের বারবার এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এর জন্য দায়বদ্ধতা এবং আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তিনি এএনআই-কে বলেন, "এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এমন ঘটনা বারবার ঘটছে - আমরা দিল্লিতে দেখেছি, এখন লখনউতে। এই ধরনের ঘটনা রুখতে কী ব্যবস্থা আছে? সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত কোথায় ভুল ছিল এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।" প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন লাগার পর বিল্ডিংয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু বাসিন্দা জানালা এবং অন্যান্য পথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একজন বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দেন এবং গুরুতর আহত হন। কর্তৃপক্ষ এখনও আগুনের সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি। ঘটনার তদন্ত চলছে। মৃতদের পরিবার পিছু ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপুরণ দাবি করেছের অখিলেশ যাদব।