ভারতীয় সমাজে ক্রমেই মহিলা ও কন্যাশিশুদের উপর যৌন নির্যাতন ও যৌন হেনস্থার ঘটনা বেড়ে চলেছে। বৃহস্পতিবারই ঝাড়খণ্ড থেকে এক ৩৫ বছরের মহিলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার খবর সামনে এসেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের একটি রাজ্যে ধর্ষণের শাস্তি করা হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড! বুধবারই মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে মন্ত্রিসভা এই বিষয়ক খসড়া বিল-কে অনুমোদন দিয়েছে। শীঘ্রই বিলটি মহারাষ্ট্র বিধানসভায় উপস্থাপন করা হবে।

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই সেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ জানিয়েছেন নয়া আইনটির নাম 'শক্তি আইন'। এই আইনে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে। এছাড়া, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মোটা জরিমানাসহ অন্যান্য কঠোর শাস্তি দেওয়ারও বিধান থাকছে। এই আইনের আওতায় প্লাস্টিক সার্জারি ও মুখের পুনর্গঠনের জন্য অ্যাসিড আক্রান্ত মহিলাদের ১০ লক্ষ টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া যাবে। দোষীর কাছ থেকে জরিমানা হিসাবে সেই অর্থ সংগ্রহ করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, 'শক্তি আইন'-এর অধীনে ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলাগুলির শুনানি  বিশেষ আদালতে করা হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে পুলিশকে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে।

আরও পড়ুন স্বামীকে পণবন্দি করে ধর্ষণ করল ১৭ জন পুরুষ, ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার ৫ সন্তানের মা

আরও পড়ুন - অফিসের মধ্যেই কেএমসি-র ডাইরেক্টরকে চুমু ডেপুটির, তারপরই ঘোষণা 'আমি করোনা আক্রান্ত'

আরও পড়ুন - পাক হিন্দু-খ্রিস্টান মহিলারা চিনে বিক্রি হচ্ছেন বেশ্যা হিসাবে, ফাঁস করলেন মার্কিন কুটনীতিক

১৪ ডিসেম্বর থেকে মুম্বই-এ দু'দিনের জন্য মহারাষ্ট্র বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন বসথে। সেই সময়ই এই 'শক্তি আইন' বিষয়ক বিলটি উপস্থাপন করা হবে। উভয় কক্ষে আলোচনা ও অনুমোদনের পর, বিলটি স্বাক্ষরের জন্য রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে। রাজ্যপালের অনুমোদন পেলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখের দাবি, এই আইনটি রাজ্যের মহিলা ও শিশুদের সুরক্ষা দেবে। রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রী যশোমতি ঠাকুর বলেছে এটা একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করে যারা, তাদের মধ্যে ভয় বাড়বে। তবে এর আগেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে আইন কঠোর হলেও ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার ঘটনা কমেনি। এবার শক্তি আইন মহিলাদের কতটা শক্তি জোগায়, সেটাই দেখার।