ভরা অফিস। সকলেই কাজ করছেন। এমন সময় এক কর্মকর্তা এগিয়ে এলেন তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তার দিকে। তারপরই কাউকে কিছু বুঝতে দেওয়ার আগেই ঠোটে ঠোট দিয়ে চুমু। গোটা অফিস যখন হতবাক। তখনই বোমা ফাটালেন চুমু খাওয়া কর্তা, তিনি করোনা পজিটিভ। ব্যাস, ভয়ে মুহূর্তে গোটা অফিস ফাঁকা। সবাই পালালেন অফিস ছেড়ে। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানের করাচি শহরে।

পাক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা আক্রান্ত কর্তাটি করাচি মেট্রোপলিটন কর্পোরেশন বা কেএমসি-র মানবসম্পদ বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর। আর যাঁকে তিনি করোনা-সহ চুমু খেয়েছেন, তিনি ওই বিভাগেরই ডাইরেক্টর, অর্থাৎ ওই কর্মকর্তার বস। কিন্তু, কেন এমন অদ্ভূত কাজ করলেন ওই কর্তা? জানা গিয়েছে বসের উপর প্রতিশোধ নেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

তাঁর অভিযোগ, তিনি গত বেশ কয়েক মাস ধরে বেতন পাননি। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁকে গত ৫ অক্টোবর বরখাস্ত করা হয়েছিল। এই দুইয়ের পিছনে তাঁর বস ও অফিসের কয়েকজন সহকর্মীই দায়ী বলে তাঁর বিশ্বাস। আর তারই প্রতিশোধ খেতে ওই চুম্বন কাণ্ড।

আরও পড়ুন - পাক হিন্দু-খ্রিস্টান মহিলারা চিনে বিক্রি হচ্ছেন বেশ্যা হিসাবে, ফাঁস করলেন মার্কিন কুটনীতিক

আরও পড়ুন - এটাই কি তবে কোভিড মহামারির শেষের সূচনা, কী বলছে ভারতের কোভিড পরিসংখ্যান

আরও পড়ুন - বাবার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে, ১৫ বছর হলে সঙ্গম - আশ্চর্য প্রথা চালু এই বাংলাদেশি উপজাতির মধ্যে

তবে, তাঁর সেই করোনা ভরা চুম্বনের পরও কেএমসি-র মানব সম্পদ বিভাগের সেই ডিরেক্টর সংক্রমণের ভয় পাচ্ছেন না। তিনি জানিয়েছেন মাস চারেক আগে তিনি নিজেই করোনা ইতিবাচক হিসাবে সনাক্ত হয়েছিলেন। তাই তাঁর দেহে এখনও করোনা রোধী অ্যান্টিবডি আছে বলেই তাঁর বিশ্বাস। তবে অভিযুক্ত ওই কর্তার বিরুদ্ধে তিনি আইনী ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। ডাইরেক্টর ভয় না পেলেও. সংক্রমণের ভয়ে কাঁপছে ওই অফিসের অন্যান্য কর্মীরা। কারণ, তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্ত কর্তা ডাইরেক্টরকে চুম্বন করার আগে করোনার পজিটিভ অবস্থায় অফিসের বহু কর্মীর সঙ্গেই মেলামেশা করেছিলেন। পাকিস্তানে এখনও পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, ৪ লক্ষ ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষ আর এই রোগে মৃত্যু হয়েছে ৮,৫৪৭ জন।