মহারাষ্ট্রে বিজেপি সমর্থন দিয়েছেন মাত্র দুদিন হয়েছে। এরমধ্যেই মহারাষ্ট্রের নতুন উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার বিজেপি সঙ্গের পুরষ্কার পেলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সেচ কেলেঙ্কারির যে ২০টি এফআইআর ছিল, তারমধ্যে ৯টি তদন্তে সোমবার মহারাষ্ট্র সরকার তাঁকে ক্লিনচিট দিয়েছে। কংগ্রেস-এনসিপি শাসনকালেই এই কেলেঙ্কারির কথা উঠেছিল। তদন্ত শুরু হয় তখনই। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন সেচ প্রকল্পে অনুমোদন ও রূপায়নের ক্ষেত্রে প্রায় ৭০,০০০ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল অজিত পওয়ারের বিরুদ্ধে।

২০১৪ সালের আগে মহারাষ্ট্রের তখতে ছিল কংগ্রেস এনসিপি সরকারই। সেই সময়ই মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন সেচ প্রকল্পে প্রায় ৭০০০০কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। অজিত পওয়ারই সেই সময় রাজ্যের সেচমন্ত্রী ছিলেন। এনসিপি-র আরও কয়েকজন মন্ত্রীসহ অজিতের বিরুদ্ধেও ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

এদিন তারই ৯টি মামলায় ক্লিনচিট পেলেন তিনি। তবে এখনও ১১টি ক্ষেত্রে তিনি অভিযুক্ত। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত বিজেপি সরকারের পক্ষে পর্যাপ্ত বিধায়কের সমর্থন এনে দিতে পারলে বাকি থাকা মামলাগুলির ভবিষ্যতও এইরকমই হবে। ৯টি মামলায় অজিতকে ক্লিনচিট দিয়ে কংগ্রেস ও এনসিপি-র যেসব বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছে তাদের আকৃষ্ট করতে চাইছে বিজেপি এমনটাই মনে করা হচ্ছে। যদিও মহারাষ্ট্রের দুর্নীতি দমন শাখার দাবি এদিন য়ে মামলাগুলির তদন্ত বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলির কোনওটিই মহারাষ্ট্রের নতুন উপ-মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছিল না।

তবে এতে করে সুবিধা পেয়ে গেল শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোটও। প্রথম থেকেই তিন দলের নেতরাই বলে আসছিলেন চাপ দিয়েই বিজেপি অজিত পওয়ারকে সমর্থন দিতে বাধ্য করেছে। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত সরাসরি এই সেচ-দুর্নীতির মামলার চাপের কথাই বলেছিলেন। বিজেপির এই পদক্ষেপে তাদের সেই অভিযোগই স্বীকৃতি পেল।