লাদাখে ১৯৬২ যুদ্ধে মেজর থাপা আজও মিথ  শ্রীজাপ উপত্যকা রক্ষার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর  ৬০০ চিনা সেনাকে প্রতিহত করেন তিনি  তিন বার আক্রমণ চালিয়েছিল চিন 

২০ অক্টোবর ভারত-চিন যুদ্ধের ৫৮ তম বার্ষিকি। আর ঠিক ৫৮ বছর আগে এই দিনটাকই লাদাখে চিনা সেনার সঙ্গে বীরবিক্রমে লড়াই করেছিলেন মেজর ধ্যান সিং থাপা। পরবর্তীকালে তাঁকে পরমবীর চক্রে ভূষিত করা হয়েছিল। কিন্তু মেজন ধ্যান সিং থাপার কাজটা খুব একটা সহজ ছিল না। কারণ সেই সময় তাঁর অধীনে সৈন্য সংখ্যা যেমন কম ছিল তেমনই চূড়ান্ত অভাব ছিল গোলা বারুদ সহ আগ্নেয়াস্ত্রের। পাল্টা মেজর থাপা আর তাঁর দলবলকে লড়তে হয়েছিল বিশাল আর সশস্ত্র লাল ফৌজের সঙ্গে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

হিমালয়ের বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে ভারত আর চিনের মধ্যে কোনও দিনই সম্পর্ক তেমন মধুর ছিল না। বতর্কিত এলাকাগুলিতে এখনকার মত সেই সময়ও চিনা সেনা বারবার অনুপ্রবেশ করছিল বলে অভিযোগ। আর চিনের এই আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু 'ফরওয়ার্ড পলিসি' নামে একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিলেন। এই পলিসির নীতি অনুযায়ী মেজর থাপার অধীনে সীমান্ত পাহারায় শ্রীজাপ উপত্যাকার এক নম্বর ফরোয়ার্ড এলাকায় মোতায়েন ছিল ডি-কোম্পানি পলটন। তিনি ৮ নম্বর গোর্খা রাইফেস-এর প্রধান ছিলেন। 


মেজর থাপা অনুমান করেছিলেন চিনা সেনা শ্রীজাপ উপত্যকায় হামলা চালাবে। আর সেই কারণেই হামলা প্রতিহত করতে তিনি তাঁর বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন দ্রুততার সঙ্গে গভীর বাঙ্কার তৈরি করতে। তাঁর অনুমান সত্যি করেই রাতের অন্ধকারে হামলা চালিয়েছিল লাল ফৌজ। প্রথম থেকেই তাঁরা মর্টার আর আর্টিলারি বোম্ব ছুঁড়তে থাকে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ৬০০ চিনা সেনা একটানা হামলা চালিয়ে গিয়েছিল। পাল্টা কিছুটা চুপচাপ ছিল ভারতীয় জওয়ানরা। তারপর চিনারা ধীরে ধীরে ভারতীয় সীমান্তের দিকে এদিয়ে এলে রুদ্র মূর্তী ধারন করে ভারতীয় জওয়ানরা। হাতে অস্ত্রের পরিমাণ কম থাকায় বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আপারেশন পরিচালনা করিছিলেন মেজর থাপা। ভারতীয়রা হালকা মেশিনগান আর রাইফেল দিয়েই বাজিমাত করেছিল। হত্যা করেছিল প্রচুর চিনা সেনাকে। ভারতীয় সেনা জওয়ানদের হাত থেকে শ্রীজাপ উপত্যকার দখল নিতে পরপর তিনবার হালমা চালাতে হয়েছিল চিনা সেনাদের। তৃতীয় বার লাল ফৌজ ট্যাঙ্ক নিয়ে হামলা চালিয়েছিল। 

মেজর ধ্যান সিং থাপাকে বন্দি বানিয়েছিল চিনা সেনা। তাঁকে ছাড়া হয়েছিল ১৯৬৩ সালের মে মাসে। ২০০৫ সালে ৭৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু একটি ফরওয়ার্ড পোস্ট দখলে রাঁখার জন্য তিনি যে সাহসিকতা আর বিক্রম দেখিয়েছিলেন তা স্মরণ করেই তাঁর পরমবীর চক্র দেওয়া হয়েছিল।