মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর বা বিকৃত পোস্ট করে এ রাজ্যের বেশ কয়েকজনকে জেলে যেতে হয়েছে। কয়েকমাস আগেও হাওড়ার এক বিজেপি নেত্রীরও একই পরিণতি হয়েছিল। দিন কয়েক আগে সিঙ্গুরের বাসিন্দা এক যুবককেও একই অপরাধে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

 এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকৃত ছবি পোস্ট করার শাস্তি পেলেন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা এক ব্যক্তি। তবে জেল বা জরিমানা নয়, বিকৃত ছবি পোস্ট করার জন্য ওই ব্যক্তিকে অভিনব শাস্তি দিয়েছে আদালত। জবিন চার্লস নামে ওই অভিযুক্ত আদালতে মুচলেকা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী এক বছর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করবেন না তিনি। এই শর্তেই তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। 

অভিযোগ, এক মাস আগে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলার বাসিন্দা চার্লস কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিকৃত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। এর পরেই নাঞ্জিল রাজা নামে স্থানীয় এক বিজেপি নেতা ভাদাসেরি পুলিশ স্টেশনে ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে আগামজামিনের আবেদন করেন চার্লস। 

নিজের হলফনামায় প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি পোস্ট করার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন চার্লস। তিনি দাবি করেন, ভুল বুঝতে পেরে ওই বিকৃত ছবি পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ব্লক করে দেন তিনি। কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করার অধিকার কোনও নাগরিকেরই নেই। ভুল স্বীকার করে স্থানীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতেও তিনি রাজি বলে আদালতকে জানান অভিযুক্ত।

চার্লসের এই মামলা সোমবার মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চে ওঠে। সেখানেই মুচলেকা দিয়ে এক বছর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার না করার কথা জানাতে হয় চার্লসকে। বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন চার্লসের জামিন মঞ্জুর করে জানিয়ে দেন, যদি এই এক বছরের মধ্যে চার্লসের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের প্রমাণ মেলে, তাহলে জামিন খারিজ করার আবেদন নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে অভিযোগকারী পক্ষ। ক্ষমা চেয়ে নিম্ন আদালতে একটি চিঠি জমা দেওয়ার জন্যও চার্লসকে নির্দেশ দেন বিচারপতি।