দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের মেগা র‍্যালিতে উপচে পড়া ভিড়। আর এই ভিড় দেখেই কংগ্রেসের দাবি, নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের সময় এবার শেষ। দেশের মানুষ তাদের আসল রূপ চিনে ফেলেছে।

কংগ্রেস এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানাল। রবিবার রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের মেগা র‍্যালিতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। আর এই ভিড় দেখেই প্রবীণ কংগ্রেস নেতারা দাবি করছেন, বর্তমান সরকারের যে 'সময় শেষ', গোটা দেশে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে গেছে। এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার যেভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, দেশের মানুষ তা ঠিকই ধরে ফেলেছে।

বেণুগোপাল বলেন, "নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহকে আজ দেশের মানুষ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে ওদের সময় শেষ। ছলে-বলে-কৌশলে ক্ষমতা ধরে রাখার দিন আর নেই। আসল অপরাধী কারা, তা মানুষ এখন চিনে গেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কাজে লাগিয়ে ওরা দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।"
সভাস্থলের বিশাল ভিড়ের দিকে আঙুল তুলে এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানুষের মনে কতটা ক্ষোভ জমে আছে, বিরোধীদের এই র‍্যালিই তার প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, “রাহুলজি আজকের সভায় খুব স্পষ্ট করেই বলেছেন যে, এই বিশাল র‍্যালির মাধ্যমে দেশের মানুষ মোদী আর শাহকে একটা বার্তা দিতে চায়। আপনারা এই জনসমুদ্র দেখতেই পাচ্ছেন। এটা গোটা দেশের একটা স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং যারা এই দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে, তাদের জন্য এটা একটা কড়া জবাব। মানুষ আর তাদের এসব করতে দেবে না।”

বিরোধীদের এই জমায়েত নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার পাল্টা জবাব দিয়ে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, বিজেপি নেতৃত্ব রীতিমতো ভয় পেয়ে গেছে, ওদের সময় ফুরিয়ে আসছে।

খেরা বলেন, "এরা এখন স্বপ্নেও কংগ্রেসকে দেখতে শুরু করেছে। প্রথমত, এদের তো ঘুমই আসে না, আর যখন ঘুমোয়, তখন স্বপ্নে কংগ্রেসকে দেখে। ওদের এই ভয় পাওয়াটা দেখতে বেশ ভালোই লাগছে। ওদের বলে দিন দিন গোনা শুরু করতে—ওদের যাওয়ার সময় এসে গেছে। উনি এখন একজন বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।" শাহের এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা বলে উড়িয়ে দেন খেরা। পাশাপাশি, রাজধানীতে মানুষের এই বিপুল উপস্থিতির কথাও তিনি মনে করিয়ে দেন।

খেরা বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব দেখছেন—আর ঠিক সেই কারণেই তিনি এমন মন্তব্য করছেন। এটা একটা দারুণ সফল র‍্যালি ছিল।" তিনি আরও যোগ করেন, "গত ৩০ বছর ধরে আমি রামলীলা ময়দানে অনেক র‍্যালি দেখেছি, কিন্তু এত বড় জমায়েত আগে কখনও দেখিনি। এটা খুবই সফল একটা র‍্যালি। রামলীলা ময়দান মূল কেন্দ্র হলেও, গোটা শহর জুড়েই মানুষের ভিড় চোখে পড়েছে।"

এর আগে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ইন্ডিয়া জোটের 'চলো দিল্লি' প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন শীর্ষ বিরোধী নেতারা। সারা দেশ থেকে আসা হাজার হাজার সমর্থক রামলীলা ময়দানে জড়ো হন। মিন্টো রোড-কনট প্লেস মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি রামলীলা ময়দানের দিকে এগিয়ে যায়। গত ৩১ অক্টোবর রাজধানীতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে একটি প্রকাশ্য 'ইমপিচমেন্ট' কর্মসূচির পরেই এই বিশাল জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, জেকেএনসি সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ, সিপিআই নেতা ডি রাজা, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের মতো শীর্ষ বিরোধী নেতারা এই র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে দিয়ে বিরোধীদের একজোট হওয়ার ছবিটাই আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।