শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডে চার্জশিট পেশ করল দিল্লি পুলিশ। আফতাব পুনেওয়ালা রেগে গিয়েই শ্রদ্ধাকে হত্যা করেছে বলে দাবি পুলিশের। 

দিল্লির মেহরাউলি হত্যাকাণ্ডে দিল্লি পুলিশ ৬ হাজার ৬৩৬ পৃষ্টার চার্জশিট পেশ করেছে। মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শ্রদ্ধা ওয়াকার অন্য এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। যা পছন্দ ছিল না আফতাব আমিন পুনাওয়ালার। সেই কারণে শ্রদ্ধা বন্ধুর সঙ্গে দেখা করের ফেরার পরই আফতাব হিংস্র হয়ে পড়ে। তারপরই শ্রদ্ধাকে সে হত্যা করে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অন্যদিকে দিল্লির সকেত আদালত মেহরাউলি হত্যা মামলায় আফতাব আমিন পুনাওয়ালার বিচার বিভাগীয় হেফাজত দুই সপ্তাহ বাড়িয়েছে। অর্থাৎ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতেই থাকবে সে। আফতার আমিন তাঁর সহবাস সঙ্গী শ্রদ্ধা ওয়াকারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তারপর তার দেহ ৩৫টি টুকরো করে। সেগুলি রাখার জন্য একটি ৩০০ মিলিলিটারের ফ্রিজারও কিনেছিল। সেখানেই সে দীর্ঘদিন ধরেই শ্রদ্ধা ওয়াকারের খণ্ডিত দেহাংশ ফ্রাজার করে রেখে দেয়। রাত দুটোর সময় সেই দেহগুলি নিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেয়।

এদিন চার্জশিট পেশ করে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন শ্রদ্ধা তার এক বন্ধু সঙ্গে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। যাতে মত ছিল না আফতাবেরষ সেই কারণে সেই প্রবল রেগে গিয়ে সহবাসসঙ্গীকে হত্যা করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, দেড়শো জনেরো বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।

গত বছর ১৮ মে শ্রদ্ধা ওয়াকারকে ছাতারপুর এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তারপর করাত জাতীয় জিনিস দিয়ে শ্রদ্ধার দেহ টুকরো টুকরো করে মৃতার সহবাসসঙ্গী আফতাব। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে গত নভেম্বর মাসে। তারপরই শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়। আফতাবকে গ্রেফতার করে। আফতাব শ্রদ্ধাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করলেও তদন্তকারীদের একাধিক বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আফতাবের নার্কো অ্যানালিসিস হয়। সেই রিপোর্টও চার্জশিটে থাকছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

গত ৪ জানুয়ারি দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ছাতারপুর জঙ্গল থেকে যে দেহাংশ বা হাড়গোড়ের অংশ উদ্ধার হয়েছে, তারসঙ্গে মিলে গেছে শ্রদ্ধা ওয়াকারের ডিএনএ রিপোর্ট। ডিএনএ রিপোর্ট পরীক্ষার জন্য আগেই শ্রদ্ধার বাবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর এই রিপোর্ট তাদের চার্জশিটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করবে। দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর পচনশীল প্রায় ১৩টি দেহাংশ উদ্ধার করেছিল তারা। যার অধিকাংশই হাড়গোড়ের টুকরো। সেগুলি প্রায় প্রত্যেকটি পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে সেগুলি সবকটি শ্রদ্ধার কিনা তা এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি দিল্লি পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ

আরও অস্বস্তিতে অনুব্রত, দিল্লির আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করল তৃণমূল নেতার

বিধায়ককে ধূমকেতুর সঙ্গে তুলনা, আবারও বীরভূমে প্রতিবাদের মুখে 'দিদির দূত'

'দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হতে পারে', BBCর তথ্যচিত্র নিয়ে আপত্তি কংগ্রেস নেতার ছেলের