৫০০ জনেরও বেশি মানুষ একসঙ্গে হামলা চালিয়েছিল। ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ২৬ বছরের তরুণ আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মা-কে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল অঙ্কিতের। তারপর থেকে যে দুঃস্বপ্ন শুরু হয়েছে, তা যেন কাটতেই চাইছে না। থামতেই চাইছে না মায়ের কান্না, প্রতিবেশীদের আক্ষেপ। ঠিক কী ঘটেছিল মঙ্গলবার?

অঙ্কিতের মা সুধা শর্মা জানিয়েছেন, ওইদিন বিকেল থেকেই তাঁদের বাড়ির সামনে বেশ কিছু লোক জড়ো হতে শুরু করেছিল। বিকাল ৫টা নাগাদ অফিস থেকে বাড়ি ফিরে আসে অঙ্কিত। এসে ব্যাগ রেখেই বাড়ির বাইরে কী ঘটছে তা জানতে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে মা জানিয়েছেন, সেদিন একটু জল পর্যন্ত খাননি তিনি। সঙ্গে নিয়ে যান আরও কয়েকজন পাড়া প্রতিবেশীকেও।

আরও পড়ুন - হোয়াটসঅ্যাপেই হয়েছিল দিল্লি হিংসা-র ছক, ফুটেজ ধরে ধরে চলছে 'বহিরাগত'দের খোঁজ

তারপর থেকেই আর অঙ্কিতের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না অঙ্কিতের পরিবারের। রাতভর ছেলের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন সুধা শর্মা। কিন্তু, ছেলে ফেরেনি। তাঁর বাবা রবিন্দর কুমার শর্মা জানিয়েছেন, অনেক রাত পর্যন্ত অঙ্কিত না ফেরায় তাঁরা অঙ্কিতকে খুঁজতে বেরিয়েছিলেন। কাশ্মীর গেট ট্রমা সেন্টার ও এইমস হাসপাতালেও খোঁজ করেন। কোথাও না পেয়ে তাঁরা খেজুরি খাস থানায় যান, কিন্তু অভিযোগ না নিয়েই তাঁদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন - আগুন থেকে উদ্ধার করলেন মুসলমান প্রতিবেশীদের, নিজে পুড়ে গেলেন প্রেমকান্ত

অঙ্কিতের পরিবারের অপেক্ষা শেষ হয় বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ। অঙ্কিতের বাড়ি চাঁদ বাগ এলাকায়। বাড়ি থেকে একটু দূরেই একটি নর্দমার মধ্য অঙ্কিতের নিথর দেহ আবিষ্কার করে কিছু লোক। নর্দমা থেকে দেহটি তুলে চিনতে পেরে তারাই অঙ্কিত শর্মার বাড়িতে খবর দেয়। তাঁর দেহ এরপর নিয়ে যাওয়া হয় তেগবাহাদুর হাসপাতালে। দেহে যারপরনাই নির্যাতনের চিহ্ন ছিল।

আরও পড়ুন - মর্গে পড়ে আসফাক-রাহুল'দের দেহ, হাহাকারের দিল্লিতে মুসলিম বাবার পাশেই হিন্দু মা

কিন্তু মঙ্গলবার বিকাল ৫টা থেকে বুধবার সকালের মাঝের সময়টায় কি হয়েছিল? হয়তো কোনওদিনই তা পুরোপুরি জানা যাবে না। অঙ্কিতের সঙ্গে যাওয়া এক প্রতিবেশীর মুখ থেকে কিছুটা জানা গিয়েছে। তাঁর দাবি, বাইরে প্রায় ৫০০ লোক জড়ো হয়েছিল। তারা তৈরি হয়েই এসেছিল। স্থানীয় আপ নেতার বাড়িতে জড়ো করা হয়েছিল প্রচুর পেট্রোল বোমা। অঙ্কিতরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের ঘিরে ধরা হয়। বাকিদের ছেড়ে অঙ্কিতকে টানতে টানতে নিয়ে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। 'আমরা কিছুই করতে পারিনি' আক্ষেপ যাচ্ছে না সেই প্রতিবেশীর। রাগে দু-খে অনেকসময় অশোভন স্লোগানো দিয়ে ফেলছেন।