প্লেন দুর্ঘটনায় মৃত অজিত পাওয়ার! "তাঁর অকাল প্রয়াণ অত্যন্ত মর্মান্তিক" ট্যুইটে শোকবার্তা জানাল প্রধানমন্ত্রী

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। বুধবার সকালে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। মুম্বই থেকে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারামতির উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটে। অজিত পাওয়ার ছাড়াও আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ঘটনাটি ঘটে সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ। 

বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমানটি প্রথমবার ল্যান্ড করতে না পেরে আবার ঘুরে আসে। দ্বিতীয়বার অ্যাপ্রোচ নেওয়ার সময়ই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল একটি Learjet 45, যা বেসরকারি সংস্থা VSR Ventures পরিচালনা করছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা Flightradar24 জানিয়েছে, বিমানটি দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করছিল। DGCA-র এক আধিকারিক জানান, বিমানে মোট পাঁচজন ছিলেন—অজিত পাওয়ার, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (PSO), একজন সহকারী এবং দুই পাইলট। দুর্ঘটনার পরে কেউই জীবিত উদ্ধার হননি। 

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, “অজিত পাওয়ার ছিলেন মানুষের নেতা। নিচু স্তরে মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের মানুষের সেবায় তিনি সবসময় অগ্রভাগে ছিলেন। প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর দক্ষতা এবং দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের ক্ষমতায়নে তাঁর আগ্রহ প্রশংসনীয়। তাঁর অকাল প্রয়াণ অত্যন্ত মর্মান্তিক। পরিবার ও অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি সমবেদনা। ওম শান্তি।”

জানা গিয়েছে, স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনের আগে বারামতিতে চারটি নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল অজিত পাওয়ারের। সেই কর্মসূচিতেই যাচ্ছিলেন তিনি। অজিত পাওয়ার জন্মগ্রহণ করেন ২২ জুলাই, ১৯৫৯ সালে, মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার দেওলালি প্রভারা গ্রামে। তাঁর বাবা অনন্তরাও পাওয়ার মুম্বইয়ের বিখ্যাত রাজকমল স্টুডিওতে কাজ করতেন। 

Scroll to load tweet…

বাবার অকাল মৃত্যুর পর পড়াশোনা অসম্পূর্ণ রেখেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন অজিত। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি সমবায় চিনি কলের বোর্ডে নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর কাকা শরদ পাওয়ার তখন রাজ্য রাজনীতির পরিচিত মুখ। ব্যক্তিগত জীবনে অজিত পাওয়ার রেখে গেছেন স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার ও দুই পুত্র জয় পাওয়ার এবং পার্থ পাওয়ারকে। এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে DGCA ও সংশ্লিষ্ট বিমান নিরাপত্তা সংস্থা। গোটা দেশজুড়ে অজিত পাওয়ারের প্রয়াণে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।