Anandpur Fire Update: কলকাতার আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কত টাকা করে দেওয়া হবে ক্ষতিপূরণ? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…
Anandpur Fire Update: শহরের বুকে ফের অগ্নিকাণ্ড। আনন্দপুরের ঘটনায় ৪০ ঘন্টারও বেশি সময় পার। জোড়া গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১। দায়ের হয়েছে মামলা। যদিও এখনও নিখোঁজ রয়েছে অনেকেই। তবে ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ওই গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে। গাফিলতির জেরে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার তিনি। শুধু তাই নয়, আনন্দপুরের যে গুদামে আগুন লাগে তার পাশেই ছিলো মোমোর কারখানা। সেটিও পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোমো কারখানার কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
কী বললেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম?
এদিকে প্রায় ৩৯ ঘন্টা কেটে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেন কলকাতা পুরসভার তথা রাজ্যের মন্ত্রী মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ঘটনা ঘটার পর মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এখানে এসেছিলেন। তারপর সায়নী ঘোষ এসেছিলেন। সুজিত বসুও এসেছিলেন। এই বিষয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ''মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমি এসেছি। অত্যন্ত দুঃখের ঘটনা। অনেকগুলো মানুষ মারা গিয়েছেন। ভয়াবহ আগুন। দমকল এবং পুলিশ এটার তদন্ত করছে। কীভাবে আগুন লাগল, আগুন লাগার উৎস কি? যে দেহগুলি উদ্ধার হয়েছে তার ফরেনসিক চলছে। মিসিং ডায়েরি করা হয়েছে।''
তিনি আরও বলেন, ''কারণ দেহের আইডেন্টিফিকেশন করা যাচ্ছে না। কালকে কোর্ট অর্ডারে ওদের ব্লাড নিয়ে ডিএনএ টেস্ট হবে। হবার পরে যখন ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট আসবে, এখন আমরা বলতে পারব কোন কোন মানুষ গুলো মারা গিয়েছে।'' সেই অনুযায়ী তাদের ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। পঞ্চায়েত অফিস থেকে দেওয়া হবে। ফ্যামিলিগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা ডেথ সার্টিফিকেট পাবেন তারা যাতে চেক পান সেই ব্যবস্থা করা হবে। পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে নেওয়া হবে। আগে কারা মারা গেছে সেটা নিশ্চিত হোক। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ অনুযায়ী, যেই অন্যায় করুক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।''
উল্লেখ্য, আনন্দপুরের মৃত্যুপুরী অগ্নিদগ্ধ গুদামের সামনে স্বজনহারাদের কান্না বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ১৩ জন। মৃত ও নিখোঁজদের অধিকাংশেরই বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। জতুগৃহের সামনে দাঁড়িয়ে রেয়েছে প্রিয়জনের একটা খবরের জন্য। জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থানার পূর্ব চিলকা বাসিন্দা কৃষ্ণ মাইতি ডেকোরেটার্স এর কাজ করতেন প্রায় ১০ বছর ধরে। দুদিন আগে কথা হয়েছিল পরিবারের সঙ্গে। তারপর আর কোনও খোঁজ নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন সেখানে কৃষ্ণ মাইতি কাজ করতেন সেখানে আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে এসে আগুন ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাননি।
নরেন্দ্রপুর থানায় নিখোঁজ অভিযোগ জানালেন পরিবারের সদস্য দাদা হরেকৃষ্ণ মাইতি। আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ কৃষ্ণর দাদা হরেকৃষ্ণ জানান কারখানার একটিমাত্র দরজা, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে কিভাবে বেরোবেন কেউই জানেন না, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তিনি বলেন টাকা কি হবে অল্প বয়সে ভাইটা আগুনে পুড়ে মরলো! আর কারো ভাই যেন এইভাবে না মরে সেদিকে সরকার নজর দিন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ভাইকে খুঁজে পাওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। একই গ্রামের বাসিন্দা জয়দেব মাঝি সাত বছর ধরে কাজ করছিল ডেকোরেটারসে ফোনে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে জানতে পারেন আগুন লেগেছে, পরে আর কিছুই খবর পাননি নরেন্দ্রপুর থানায় ছুটে এসেছে পরিবার।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


