প্রধানমন্ত্রী মোদী মনে করেন, তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছনোর জন্য এক্স প্ল্যাটফর্মের চেয়ে ইনস্টাগ্রাম অনেক বেশি কার্যকরী। নিজের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এই পরামর্শই দিয়েছেন।
নয়াদিল্লি (জুলাই ২৪): NEET পেপার ফাঁস নিয়ে দেশজোড়া প্রতিবাদের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মাঝরাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি সেলফি ভিডিও শেয়ার করেন। আর তার পরেই হু হু করে বাড়তে থাকে তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার। মাত্র এক রাতের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি (১ মিলিয়ন) নতুন ফলোয়ার যোগ হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টে। এই বিপুল বৃদ্ধির ফলে প্রধানমন্ত্রীর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.২ কোটিতে (১০২ মিলিয়ন)।
"আগামীকালের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেপার ফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ আসছে!"—এই ক্যাপশন দিয়ে ভিডিওটি শেয়ার করেন মোদী। ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওটি রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ভিডিওটি ২৯.৮ কোটি (২৯৮ মিলিয়ন) ভিউ পেয়েছে। লাইক পড়েছে ১.৬ কোটি (১৬ মিলিয়ন) এবং কমেন্ট এসেছে ১৪ লক্ষ (১.৪ মিলিয়ন)।
পেপার ফাঁস সাধারণ বিষয় নয়: ভিডিওতে উদ্বেগ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী মোদী আশ্বাস দেন যে পরীক্ষার অনিয়ম রুখতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে। শুক্রবারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের অ্যাজেন্ডা কী, সে সম্পর্কেও তিনি তথ্য দেন।
মোদী বলেন, "আমি জানি যে পেপার ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটা লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য গভীর কষ্টের কারণ। পেপার ফাঁসের ঘটনার পর গত আড়াই মাস ধরে অনেক কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা এখন জেলে আছে। ছাত্রছাত্রীদের একটা গোটা বছর যাতে নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল। সরকার তার সব শক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছে যাতে ২২ লক্ষ পড়ুয়া যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবার পরীক্ষা দিতে পারে।"
পেপার ফাঁস আইনে সংশোধনী: ১০ বছরের জেল, ১০ কোটি টাকা জরিমানা!
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই শুক্রবারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'পেপার লিক প্রিভেনশন অ্যাক্ট' বা প্রশ্নফাঁস বিরোধী আইনের সংশোধনীতে অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন খসড়া প্রস্তাবে পরীক্ষার অনিয়মে জড়িতদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে খবর, সংশোধিত আইন অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত মোটা অঙ্কের জরিমানার সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগে যেখানে ন্যূনতম সাজার মেয়াদ ৩ বছর ছিল, তা বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়েছে।
