মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির সংসদ মার্গ থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, কমিশনে সব সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির সংসদ মার্গ থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, কমিশনে সব সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম দেখে মনে হচ্ছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যেন আইনি সুরক্ষা পাওয়ার বিষয়টি ধরে নিয়েই কাজ করছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ, চাকরির শর্কত এবং মেয়াদ সংক্রান্ত আইনের ১৬ নম্বর ধারার উল্লেখ করেন।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ

মহুয়া মৈত্রের দাবি, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী একাধিকবার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সঙ্গে মতবিরোধ প্রকাশ করেছেন। একটি সংবাদপত্রের তদন্তমূলক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তাঁর দাবি, অন্তত ১৪টি ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের কোনও সিদ্ধান্ত যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে না নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার প্রশ্নও উঠতে পারে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

ভোটার তালিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, নতুন ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ বাবা-মায়ের তথ্য সংক্রান্ত একটি নতুন প্রশ্ন যোগ করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনারই এই বিষয়টিকে আইনসঙ্গত নয় বলে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এ ছাড়াও নির্বাচন পঞ্জিকরণ আধিকারিক (ERO) এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) প্রয়োজনীয় তথ্য ও সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন মহুয়া।

নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

নির্বাচন কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল (আইটি) সীমা খান্নার বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, ERO এবং BLO-দের অন্ধকারে রেখে ভোটার তালিকায় কারচুপির উদ্দেশ্যে সফটওয়্যারের ব্যাকএন্ডে হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল।

বাংলার ভোটার তালিকা নিয়েও প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়েও সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় ৩৩ লক্ষ বৈধ ভোটারের বিরুদ্ধে আপত্তি বা আবেদন করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। মহুয়ার বক্তব্য, গণতন্ত্রের ভিত্তি হল অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। ভোটদানের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত না হলে অন্য কোনও রাজনৈতিক বিষয়ই অর্থবহ হয়ে ওঠে না। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মহুয়া মৈত্র।