তেলেঙ্গানা বিজেপির প্রধান এন রামচন্দর রাওয়ের দাবি, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর কংগ্রেস 'নার্ভাস' হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, সংসদে এই বিলের বিরোধিতা করে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এখন নিজেদের 'পাপ ধুতে' চাইছেন।
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির
রবিবার তেলেঙ্গানা বিজেপির সভাপতি এন রামচন্দর রাও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের পর 'কংগ্রেস পার্টি নার্ভাস হয়ে পড়েছে'। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে INDIA জোটের আসল অবস্থান ফাঁস হয়ে গেছে। রাও আরও অভিযোগ করেন যে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এখন এই বিলের বিরোধিতা করার পর নিজেদের 'পাপ ধোয়ার' চেষ্টা করছেন।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রামচন্দর রাও বলেন, "আজ কংগ্রেস এবং তার নেতারা, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, নিজেদের পাপ ধুতে চাইছেন। কারণ তাঁরা দেশের ৫০ শতাংশ জনসংখ্যার অধিকারের ওপর আক্রমণ করেছেন। তাঁদের জন্যই মহিলারা বিধানসভা ও সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ হারিয়েছেন।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিরোধীদের এই অবস্থানের কারণেই সংসদে ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলারা যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ওই বিজেপি নেতা আরও বলেন, "লজ্জা পাওয়ার বদলে আজ দুই নেতাই প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করার চেষ্টা করছেন... প্রধানমন্ত্রী দেশের ৫০ শতাংশ মহিলা জনসংখ্যার আশীর্বাদ পেয়েছেন। আমি নিশ্চিত যে মানুষ কংগ্রেস নেতাদের অবশ্যই শাস্তি দেবে।" তাঁর মতে, সারা দেশের মহিলা ভোটারদের সমর্থন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছে এবং ভোটাররা কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে এর জবাব দেবে।
বিরোধীদের নিয়ে মোদীর সমালোচনা
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীদের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকারের চেষ্টা সত্ত্বেও বিরোধীদের কাজের জন্য মহিলাদের আকাঙ্ক্ষা 'চূর্ণ' হয়ে গেছে। শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে মোদী বলেন, "মহিলারা হয়তো অন্য সবকিছু ভুলে যেতে পারেন, কিন্তু তাঁরা নিজেদের গর্বের অপমান কখনও ভোলেন না।" তিনি আরও যোগ করেন, "বিরোধীরা যে পাপ করেছে", তার জন্য মানুষ তাদের শাস্তি দেবে।
নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল INDIA জোট
গত ১৭ এপ্রিল লোকসভায় বিরোধী দলগুলি মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। INDIA জোটের অবস্থান স্পষ্ট করে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা বলেন, "আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। পুরো INDIA জোটই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে। এই ভোট এটা আরও স্পষ্ট করে দিল যে, আমাদের মতে, যে বিলটি আনা হয়েছিল এবং তিন দিনের আলোচনা হয়েছিল, তা মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে ছিল না; এটা শুধুমাত্র ডিলিমিটেশন বা সীমানা নির্ধারণ নিয়েই ছিল। আমরা সবাই এই বিষয়ে আমাদের মতামত খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছি।"
লোকসভায় সংবিধান (একশো একত্রিশতম সংশোধনী) বিল, ডিলিমিটেশন বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল একসঙ্গে পাস করার জন্য তোলা হয়েছিল। তিনটি বিলের উপর বিতর্কের পর সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটি হয়। তাতে পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে।


