মায়ের মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ জানুয়ারি। তারপর পার হয়ে গিয়েছে তিন সপ্তাহ। কিন্তু এখনও অব্দি শেষকৃত্য করে উঠতে পারেননি ছেলে। চিন থেকে মায়ের দেহ ফেরাতে লড়ে যাচ্ছেন পেশায় দন্ত চিকিৎসক পুনিত মেহরা। বছর পয়ত্রিশের পুনিত মায়ের দেহ দেশে ফেরাতে প্রাণপন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরেরও দ্বারস্থ হয়েছে মুম্বই নিবাসী পুনিত।

তিন সপ্তাহ আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে মুম্বই যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন ৬৩ বছরের রিতা মেহরা। কিন্তু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিমানেই মৃত্যু হয় প্রৌঢ়ার। এরপর চিনা বিমানটি জেংজু বিমানবন্দরে জরুরী অবতরণ করে। তারপর থেকে সেখানকার হাসপাতালেই রাখা রয়েছে রিতা মেহরার দেহ। মৃত্যুর পর ২৪ দিন কেটে যাওয়ার পরও চিন থেকে আনা যায়নি প্রৌঢ়ার দেহ। 

 

মায়ের দেহ ফেরাতে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানিয়েছেন রিতাদেবীর ছেলে পুনিত মেহরা। তবে এখনও পর্যন্ত এই কাজে কোনও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্রমেই অসন্তোষ দানা বাঁধছে মেহরা পরিবারে। 

" আমি সমস্যাটা বুঝতে পারছি না। আমি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও বিদেশমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছি, তবে কবে আমার মায়ের দেহ ফিরিয়ে আনা হবে তার এখনও কোনও সদুত্তর নেই", বলছেন চিকিৎসক পুনিত মেহরা। 

 

বর্তমানে হেনান প্রদেশের সরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে রিতা মেহরার দেহ। এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণেই তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও প্রৌঢ়ার দেহ দেশে ফেরান যায়নি বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহের শেষেই চিকিৎসার যাবতীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে চিনে উড়ে যাওয়ার কথা ভারতীয় বিমানের। সেই বিমানে যাতে তাঁর মায়ের দেহ ফিরিয়ে আনা হয় তা নিয়ে ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেছেন পুনিত। 

"আমি ওয়েবসাইটে চিঠি দিয়ে মোদীজির কাছে আমার অভিযোগ দায়ের করেছি। রাষ্ট্রপতি ও বিদেশমন্ত্রকেও চিঠি পাঠিয়েছি। বেজিং-এ ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সাড়া পাইনি। ২৪ দিন কেটে গিয়েছে, আমরা এখনও মায়ের সন্ধান জানিনা।" জানাচ্ছেন  চিকিৎসক পুনিত মেহরা।

প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর কাছে রীতা মেহেরার দেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন করেছেন তাঁর স্বামী চিকিৎসক রাজেন্দ্র মেহরাও। তবে করোনা ভাইরাসের কারণেই দেহ ফিরিয়ে আনতে প্রচুর বাধা-বপত্তি পেরোতে  হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। এই বিষয়ে রীতা মেহরার পরিবারকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে চিনে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে। বর্তমানে চিনে কোরনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১,৮০০ জন। ২০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে মারণ করোনা ভাইরাস।