সন্তানের বিয়ে নিয়ে সব বাবা-মারই নানা স্বপ্ন থাকে। অনেকেই অভিনব কিছু করার চেষ্টা করেন। কিন্তু উত্তর প্রদেশের মরেঠর এক মেয়ের বাবা যা করলেন, তা সত্যিই এক নজির সৃষ্টি করল।

গত শনিবার থেকে হিংসায় জ্বলছে রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্ব অংশ। মৃত্যু মিছিল থামছেই না। দাঙ্গা বন্ধ হলেও এখনও পরিস্থিতি রাজধানী জুড়ে। দেশ জুড়ে যখন চাপা উত্তেজনা তখন সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়লেন এই মুসলিম বাবা। উত্তরপ্রদেশের মেরঠের হিস্তনাপুর এলাকার বাসিন্দা মৌলবাদীদের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে মেয়ের বিয়ের কার্ডে ছাপালেন হিন্দুদেবতা রাধাকৃষ্ণ ও গণেশের ছবি।

শরাফত যে দৃষ্টান্ত স্থাপল করলেন তা হয়তো এর আগে কেউ করেননি। মেয়ের বিয়ের জন্য পাছানো তার সেই কার্ড ইতিমধ্যে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। মুসলিম বাবার এই উদ্যোগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনদের দল। 

আরও পড়ুন: অপরাধ ছিল ফোনে কথা বলা, মারধরের পর মেয়ের চুল কাটল পরিবার

এলাকায় সজ্জন হিসাবেই পরিচিত মহম্মদ শরাফত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাড়াতে তার এই উদ্যোগের পর এলাকায় এখন সর্বত্রই তাঁকে নিয়ে চর্চা চলছে। পাচ্ছেন প্রচুর প্রশংসা। বরাবরই সবাইকে নিয়ে থাকতে ভালবাসেন এই প্রৌঢ়। জীবনে কখনও হিন্দু-মুসলিম ভেগাভেদ করেননি। নিদের সন্তানদেরও সেই শিক্ষা দিয়েই বড় করেছেন। তাই পরিবার-পরিজনদের পাশাপাশি এলাকার হিন্দু ভাইয়েদের জন্য মেয়ের বিয়ের কার্ডে ছাপিয়েছেন গণপতি ও রাধাকৃষ্ণের ছবি। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে ঝড় তুলেছে। 

আগামী ৪ মার্চ মহম্মদ শরাফতের মেয়ে আসমা খাতুনের বিয়ে। তাই আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিমন্ত্রণ করার জন্য একটি বিয়ের কার্ড ছাপিয়েছেন তিনি। আর সেই কার্ডে ইসলাম রীতি মেনে চাঁদ মুবারক লেখার পাশাপাশি রাধাকৃষ্ণ ও গণেশের ছবিও ছাপিয়েছেন। মেয়ের বিয়ের কার্ডের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার এই অভিনব উদ্যোগ যে নেট দুনিয়ায় এতটাই হিট হবে তা নিজেও কল্পনা করতে পারেননি শরাফত। 

আরও পড়ুন: চরম খাদ্য সঙ্কটে মেরুভল্লুকদের প্রজাতি, খিদের জ্বালায় নিজের সন্তানকে খেল মা

চারিদিকে যখন বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রদায়িক ঘৃণার ফলে হিংসা ছড়াচ্ছে। তখন হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া খুব দরকার বলে মনে করেছেন শরাফত। এই বিষয়ে নিজের বন্ধুদেরও ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি তিনি। কারণ তাঁদের উৎসাহেই এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পরেছেন মেরঠের বাসিন্দা মহম্মদ শরাফত।