গত কয়েকদিন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে দেখা গিয়েছে হিংসাত্মক আন্দোলন বৃহস্পতিবার এই আন্দোলনকে নতুন মাত্রা পেল পথ দেখালো জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্তা দিলেন এই আন্দোলন ধ্বংসের নয়, গঠনের 

গত কয়েকদিন ধরে একের পর এক রাজ্যে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আগুন জ্বলেছে। আবেগ সামলাতে না পেরে বারবারই প্রতিবাদ হয়ে উঠেছে হিংসাত্মক। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদীদের আবেগ সংবরণ করার আবেদন জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বুকে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনকে নতুন পথ দেখালো জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গত কয়েকদিনের মতো বৃহস্পতিবারও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে। স্থানীয় বহু মানুষও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে এক অদ্ভূত সুন্দর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃশ্য তৈরি হল। মুসলিম শিক্ষার্থীরা ও স্থানীয় মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে নামাজ পাঠ করলেন। আর তাঁদের ঘিরে অন্যান্য ধর্মের ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ হাতে হাত রেখে গঠন করলেন মানব বন্ধন।

সেই মানব বন্ধনে, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিষ্টান, পার্সি - ভারতের অমুসলিম প্রায় কোনও ধর্মের মানুষেরই অভাব ছিল না। এই দৃশ্যের মধ্য দিয়েই তাঁরা বিনা হিংসায়, নীরবে বুঝিয়ে দিলেন ভারতের মতো দেশে ধর্মের ভিত্তিতে আইনে ভাগাভাগি তাকতে পারে না। এই নিয়েই তাঁদের প্রতিবাদ। একই সঙ্গে এক মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই আইন-কে কেন্দ্র করে যে অবিশ্বাস ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে প্রলেপ লাগিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিলেন শিক্ষার্থীরা।

Scroll to load tweet…

গত কয়েকদিনে দিল্লির বিভিন্ন এলাকার মতো জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্দোলনকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জনসাধারণের সম্পত্তির ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে গুলি চালানো থেকে নির্ববিচারে লাঠিচার্জ, মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। 

সেই দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কিন্তু বৃহস্পতিবার সুরজমল স্টেডিয়ামে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদীদের হাতে কলা, জল তুলে দিতে দেখা গেল। স্টেডিয়ামের একপাশে পুলিশের পক্ষ থেকে টেবিল করে বিভিন্ন সামগ্রী সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। এক এক করে প্রতিবাদীদের হাতে সেগুলি তুলে দেওয়া হয়।

Scroll to load tweet…

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করার আবেদন জানান। আন্দোলনের সময় আবেগকে সংযত রাখার আবেদন করেন দিল্লির জামে মসজিদের শাহি ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারি। এদিন জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সেই বার্তাই দিলেন।