রবিবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওয়ের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রবিবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওয়ের জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের অগ্রগতিতে রাওয়ের অবদানের কথা তিনি বিশেষভাবে মনে করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে মোদী রাওকে একজন দক্ষ প্রশাসক এবং প্রাজ্ঞ পণ্ডিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যাঁর ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ছিল।
প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, “প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রী পিভি নরসিমা রাও জি-কে তাঁর জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের দেশের ইতিহাসের এক সংকটময় পর্বে ভারতের অগ্রগতিতে তিনি দীর্ঘস্থায়ী অবদান রেখেছিলেন। একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি নিজের ছাপ রেখে গেছেন। তিনি একজন প্রাজ্ঞ পণ্ডিতও ছিলেন, ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ও উপলব্ধি ছিল।”
পিভি নরসিমা রাওয়ের জন্ম ১৯২১ সালের ২৮ জুন, করিমনগরে।
রাও (১৯২১-২০০৪) ছিলেন ভারতের নবম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। পেশায় আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ রাও আধুনিক ভারত গঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর আমলেই যুগান্তকারী অর্থনৈতিক উদারীকরণ নীতি চালু হয়, যা 'লাইসেন্স রাজ'-এর অবসান ঘটায় এবং বিশ্ব বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য ভারতের দরজা খুলে দেয়। তাঁর সময়ে সাক্ষরতা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির চেষ্টা করা হয়, বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। রাওয়ের নেতৃত্বে ভারত এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছিল, যা দেশের উন্নয়নের পথে এক দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়। তাঁর অবদানের জন্য ২০২৪ সালে তাঁকে মরণোত্তর 'ভারতরত্ন' সম্মানে ভূষিত করা হয়।
'লুক ইস্ট' নীতির রূপকার
রাও ১৯৯১-৯২ সালে ভারতের 'লুক ইস্ট' নীতি চালু করেন। এটি ছিল একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন। এর মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির (ASEAN) সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করা। এর মাধ্যমে বাণিজ্য ও উন্নয়ন বাড়ানো এবং চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলা করাই ছিল উদ্দেশ্য। এই নীতিই পরবর্তীকালে আরও সক্রিয় 'অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি'-র পথ তৈরি করে দেয়।
তিনি ১৯৬২-৬৪ সাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আইন ও তথ্য মন্ত্রী ছিলেন। এরপর ১৯৬৪-৬৭ সাল পর্যন্ত আইন ও এনডাওমেন্টস, ১৯৬৭ সালে স্বাস্থ্য ও ঔষধ এবং ১৯৬৮-৭১ সাল পর্যন্ত শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
