NEET-UG পরীক্ষার বেনিয়মের অভিযোগে বিরোধী সদস্যদের বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যসভা। অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। সরকার বিতর্কের জন্য প্রস্তুত বলে জানালেও, বিরোধীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড়।

NEET-UG পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। বিরোধী সাংসদদের তুমুল স্লোগান ও বিক্ষোভের জেরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে হয়। প্রশ্নফাঁস বিতর্ক নিয়ে সরকার এবং বিরোধী, দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় সভায় তীব্র বাদানুবাদ দেখা যায়।

বিতর্কে রাজি সরকার, কিন্তু শর্ত মানতে নারাজ

সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, সরকার NEET ইস্যুতে আলোচনা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত, কিন্তু বিরোধীরা পূর্বশর্ত চাপিয়ে দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে। তিনি বলেন, "সব দলই NEET নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছে। আজ আবার NDA-এর সব দল দাবি করেছে যে NEET নিয়ে আলোচনা হোক। আমার আশা ছিল যে গতকাল খাড়গেজি এবং অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর আজ হয়তো আলোচনা হতে পারে। কিন্তু কংগ্রেস পার্টি একটা শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা অনুরোধ করেছিলাম যে আলোচনা কীভাবে এবং কতক্ষণ ধরে হবে, তা আমরা নিজেদের মধ্যে ঠিক করে নিই, কিন্তু কোনও শর্ত চাপাবেন না। শর্ত চাপানোর উদ্দেশ্য ঠিক নয়, কারণ আপনারা আলোচনা বন্ধ করতে চান। আমরা আবারও অনুরোধ করছি, কোনওরকম রাজনীতি না করে দুই কক্ষেই NEET পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হোক। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একটি অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং দেশকে জানিয়েছেন যে বিচারবিভাগীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট স্থাপন করা উচিত, যাতে দেশে এমন কোনও ঘটনা ঘটলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কঠোরতম শাস্তি দেওয়া যায়। সরকারের পক্ষ থেকে এত ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমার অনুরোধ, আপনারা কোনও শর্ত চাপাবেন না।"

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই, দাবিতে অনড় বিরোধীরা

এর জবাবে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে "উস্কানিমূলক" বলে অভিহিত করেন। তিনি প্রশ্নফাঁসের দায় সরকার এড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। খাড়গে বলেন, "আজ প্রধানমন্ত্রী একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এটি একটি উস্কানিমূলক বিবৃতি। শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, তবেই আমরা আলোচনায় রাজি হব।"

সংসদ চত্বরেও বিক্ষোভ

এদিকে, এদিন সকালেই সংসদ চত্বরের মকর দ্বারের কাছে বেশ কয়েকজন বিরোধী সাংসদ বিক্ষোভ দেখান। দেশজুড়ে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে যে প্রতিবাদ চলছে, তার মধ্যেই তাঁরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্তের দাবি তোলেন। কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীও এই বিক্ষোভে যোগ দেন। অন্যদিকে, শাসকদল NDA-এর সাংসদরা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পাল্টা বিক্ষোভ দেখান। কল্যাণবাবু দুই মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার জন্য সভা থেকে সাসপেন্ড হয়েছিলেন।

প্রশ্নফাঁস রুখতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট, আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার এই আন্দোলন নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি যুবসমাজের ভবিষ্যতের ওপর জোর দিয়ে জানান যে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হবে।