চার বছর আগে ২০১৬ সালে বিহার-কে 'ড্রাই স্টেট' হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। অর্থাৎ রাজ্যে মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু, তাতে যে বিন্দুমাত্র কাজ হয়নি তা জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার সাম্প্রতিকতম অর্থাৎ ২০১৯-২০-র প্রতিবেদন (এনএফএইচএস-৫) এই পরিষ্কার। মহারাষ্ট্রে মদ্যপান নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু সমীক্ষার ফল বলছে বিহারের জনগণ সেই রাজ্যের জনতার থেকে বেশি মদ্যপান করে।

এনএফএইচএস -৫ প্রতিবেদনে অনুসারে বিহারের ১৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের ১৫.৫ শতাংশ মদ্যপান করে। শহরাঞ্চলের তুলনায় এই প্রবণতা বেশি গ্রামাঞ্চলেই। গ্রামীন বিহারের ১৫.৮ শতাংশ পুরুষ মদ্যপান করেন, শহরাঞ্চলে সংখ্যাটা ১৪ শতাংশ। মহারাষ্ট্রে, সব মিলিয়ে মদ্যপান করেন ১৩.৯ শতাংশ পুরুষ। এরমধ্যে শহরে ১৩ শতাংশ, আর গ্রামাঞ্চলে ১৪.৭ শতাংশ পুরুষ মদ খান। অর্থাৎ বিহারের তুলনায় মহারাষ্ট্রের গ্রাম ও শহর - দুই অঞ্চলেই মদ খাওয়ার প্রবণতা কম।

মহিলাদের মদ্যপানের ক্ষেত্রে অবশ্য দুই রাজ্যই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। দুই রাজ্যেই ০.৪ শতাংশ মহিলা অ্যালকোহল সেবন করেন। বিহারের শহরাঞ্চলের মহিলারা (০.৫ শতাংশ) মহারাষ্ট্রের শহুরে মহিলাদের (০.৩ শতাংশ) থেকে বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ করেন। তবে পরিসংখ্যানটা গ্রামাঞ্চলে ঠিক উল্টোয গ্রামীন বিহারের যেখানে ০.৪ শতাংশ মহিলা মদ্যপান করেন, সেখানে মহারাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চলে মদ্যপান করে থাকেন ০.৫ শতাংশ মহিলা।

ড্রাই স্টেট হয়েও মদ্যপানে মহারাষ্ট্রকে বিহারের টেক্কা দেওয়াটাই এনএফএইচএস -৫ প্রতিবেদনের একমাত্র চমক নয়। ভারতের সব রাজ্যের মধ্যে মদ্যপান নিয়ে সবথেকে উদার পরিবেশ গোয়ায়। তাই ভারতে মদ্যপানে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে এই রাজ্যই এমনটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু, সমীক্ষার ফল বলছে এই বিষয়ে জনপ্রিয় পর্যটনস্থলটি তথাকথিত মদে 'রক্ষণশীল' তেলঙ্গানার তুলনায় মদ্যপানে পিছিয়ে রয়েছে। গোয়ান পুরুষদের মধ্যে যেখানে ৩৬.৯ শতাংশ অ্যালকোহল সেবন করেন, সেখানে তেলঙ্গানার পুরুষদের ৪৩.৩ শতাংশ মদ্যপান করেন।

আরও পড়ুন - বাবা জেলবন্দি, পালিয়েছে মা - ফুটপাতে নেমে আসা কিশোরকে ছেড়ে যায়নি শুধু পোষ্য কুকুর

আরও পড়ুন - 'ডান্স মহামারি'-র কথা শুনেছেন কখনও, আক্রান্তরা এত বেশি নাচে যে শেষে তাদের মৃত্যু হয়

আরও পড়ুন - কৃষক আন্দোলনে আত্মঘাতি জনপ্রিয় শিখ সন্ত, সুইসাইড নোটে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সামগ্রিকভাবে, দেখা গিয়েছে গ্রামীণ ভারত মদ্যপানে শহরাঞ্চলের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। সবকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে মদ খাওয়ার প্রবণতা সবথেকে কম গুজরাত ও জম্মু ও কাশ্মীরে। এই দুই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুরুষদের যথাক্রমে ৫.৮ শতাংশ এবং ৮.৮ শতাংশ অ্যালকোহল গ্রহণ করেন। তবে ভারতে নেশাদ্রব্যের মধ্যে অ্যালকোহলের থেকেও বেশি চাহিদা তামাকের, আর এই ক্ষেত্রে সবার আগে রয়েছে মিজোরাম।