বুধবার দিল্লির হরিয়ানার সিংঘু সীমান্তে আত্মঘাতী হলেন হরিয়ানার কর্নলের বাসিন্দা এক শিখ সন্ত। সুইসাইড লেটারে তিনি লিখেছেন কৃষক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েই তিনি নিজেকে গুলি করছেন। নিহত ওই সন্ত-এর নাম বাবা রাম সিং। সন্ত হলেও কৃষিকাজই ছিল তাঁর পেশা। তিনি হরিয়ানা এসজিপিসি দলের নেতাও বটে। কর্নল ও তার আশেপাশে বহু অনুগামী রয়েছে। এদিকে, এদিনই কৃষক আন্দোলন নিয়ে চলমান অচলাবস্থা কাটাতে সুপ্রিম কোর্ট কৃষক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করার পরামর্শ দিয়েছে।

আরও পড়ুন - বাবা জেলবন্দি, পালিয়েছে মা - ফুটপাতে নেমে আসা কিশোরকে ছেড়ে যায়নি শুধু পোষ্য কুকুর

আরও পড়ুন - জুয়ায় হেরে গিয়ে বউকে গণধর্ষণের অনুমতি, গুণধর স্বামী পরে অ্যাসিড ঢালল 'শুদ্ধ করতে'

আরও পড়ুন - 'ডান্স মহামারি'-র কথা শুনেছেন কখনও, আক্রান্তরা এত বেশি নাচে যে শেষে তাদের মৃত্যু হয়

এদিন সিংঘু সীমান্তের কাছ থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশেই পড়েছিল হাতে লেখা সুইসাইড নোট। সেখানে ওই শিখ সাধু পাঞ্জাবী ভাষায় লিখেছেন, 'কৃষকদের দুর্দশা' এবং 'সরকারের নিপীড়ন দেখে'  তিনি যারপরনাই আহত হয়েছেন। তিনি আরও লিখেছেন রাস্তায় নামা কৃষকরা, তাঁদের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন। সরকার তাদের ন্যায়বিচার দিচ্ছে না। এটি অপরাধ। এই পাপের ফল ভোগ করতে হবে। নিজেকে ঈশ্বরের দাস বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আত্মঘাতি হচ্ছেন, সরকারি নিপীড়নের বিরোধিতা করে এবং কৃষকদের অধিকারের পক্ষে আওয়াজ ওঠানোর জন্যই।

অন্যদিকে এদিনই সুপ্রিম কোর্টে কৃষক আন্দোলন সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে সিজেআই এসএ বোবদে বলেছেন, সরকার যদি খোলা মনে কাজ না করে, তবে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা আবার ব্যর্থ হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা মনে করছেন যে আইনগুলি তাদের বিরুদ্ধে। এখন সরকার যদি মুক্ত মনে কথা না বলে আলোচনা আবার ব্যর্থ হতে বাধ্য। এই অবস্থায় সরকারের উপর আর ভরসা রাখতে পারছথে না আদালত। প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁর ধারণা শীঘ্রই এই বিক্ষোভ একটা জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হতে চলেছে। সরকারের পক্ষে এই পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। এর জন্যই আদালত সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতাকে বলেছে, বিষয়টি সমাধানের জন্য সরকারি কর্তা ও কৃষক নেতাদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করা যেতে পারে।