কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি জানিয়েছেন, জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হতে ভারত ১০০% ইথানল ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। পেট্রোল আমদানি কমাতে সরকার 'E85' ফুয়েল (পেট্রোলে ৮৫% ইথানল) চালু করার পরিকল্পনাও শুরু করেছে।

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি এক বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছরগুলিতে ভারত ১০০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি চালু করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল জ্বালানি ক্ষেত্রে দেশকে আত্মনির্ভর করে তোলা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গড়কড়ি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ-বান্ধব বিকল্প জ্বালানির দিকে দেশকে এগিয়ে যেতেই হবে।

বর্তমানে ভারতকে পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৮৭ শতাংশই আমদানি করতে হয়। এর জন্য প্রতি বছর দেশের প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয়। গ্রিন ট্রান্সপোর্ট কনক্লেভে বক্তৃতা দেওয়ার সময় গড়কড়ি ব্রাজিলের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্রাজিলের মতো দেশ সফলভাবে ১০০ শতাংশ ইথানল জ্বালানি ব্যবহার করছে, যা ভারতের জন্য একটি বড় উদাহরণ। তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে যে নতুন ফুয়েল এফিসিয়েন্সি নিয়ম আসছে, তা ইলেকট্রিক এবং ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।

গড়কড়ি হাইড্রোজেনকে 'ভবিষ্যতের জ্বালানি' বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের বর্জ্য থেকে হাইড্রোজেন তৈরি করার দিকে এগোতে হবে। যদি প্রতি কেজি হাইড্রোজেন তৈরির খরচ এক ডলারে নামিয়ে আনা যায়, তাহলে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় শক্তি রপ্তানিকারক দেশ হয়ে উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য কাউকে জোর করা হবে না। তবে গাড়ি নির্মাতাদের উচিত ভালো মানের বিকল্প জ্বালানির গাড়ি বাজারে আনা। ইথানল নিয়ে ভুল প্রচারণাকে পাত্তা না দেওয়ার জন্যও তিনি অনুরোধ করেন।

কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ

কেন্দ্রীয় সরকার এখন এক বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। দেশের গাড়ি আর শুধু পেট্রোলে নয়, মূলত অ্যালকোহল বা ইথানল দিয়ে চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকার পেট্রোলের সঙ্গে ৮৫ শতাংশ ইথানল মিশিয়ে 'E85' জ্বালানি তৈরির খসড়া নিয়ম খুব শীঘ্রই প্রকাশ করতে চলেছে। বর্তমানে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত E20 পেট্রোল ব্যবহারের পর এটি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন হতে চলেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যখন বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার অস্থির, তখন জ্বালানি আমদানি কমানোর জন্য ভারতের এই পদক্ষেপকে একটি 'মাস্টার প্ল্যান' হিসেবেই দেখা হচ্ছে।