সোমবার সন্ধায় মহারাষ্ট্রে নবগঠিত বিজেপি সরকারের বুকে সত্যি সত্যিই কাঁপন ধরিয়ে দিল শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেসের জোট। মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে একসঙ্গে গা ঘেসাঘেসি করে শক্তির জানান দিলেন শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেসের মোট ১৬২ জন বিধায়ক। সঞ্জয় রাউত এর আগে টুইট করে রাজ্যপালকে গ্র্যান্ড হায়াতে এসে তাঁদের শক্তি দেখে যেতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। রাজ্যপাল অবশ্যই আসেননি। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতেই একসঙ্গে সরকার গঠনের শপথ নিলেন বিধায়করা।  

রবিবার রাত থেকে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলেই ছিলেন এনসিপি বিধায়করা। নিখোঁজ চার বিধায়ককেও এদিন সকালে ওই হোটেলেই আনা হয়েছিল। এদিন সন্ধায় একটি বাসে শিবসেনা বিধায়করাও আসেন গ্র্যান্ড হায়াতে। আসেন কংগ্রেস বিধায়করাও। তিন দলের বিধায়কদেরই নিজেদের মধ্যে খোশ গল্প করতে দেখা যায়।

এরপর একে একে প্রথমে সুপ্রিয়া সুলেকে নিয়ে ওই হোটেলে আসেন এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার। এরপর আদিত্য ঠাকরে নিয়ে আসেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। আর সবশেষে আসেন কংগ্রেসের রাজ্যনেতা অশোক চভন ও কেন্দ্রীয় নেতা মল্লিকার্জুন খারগে।

বৈঠকস্থলটি একটি ভারতীয় সংবিধানের প্রতিকৃতি ও 'আমরা ১৬২' লেখা বোর্ড দিয়ে সাজানো হয়েছিল। নিজেদের মধ্যে সামান্য কুশল বিনিময় করে সভার কাজ শুরু করেন তিন দলের নেতারা।

কংগ্রেস নেতা অশোক চভন বলেন, শুধু ১৬২ জন বিধায়কই নন, এদিন হোটেলে উপস্থিত সকলেই পরবর্তী মহারাষ্ট্র সরকারের অংশ হতে চলেছেন। সনিয়া গান্ধী যে বিজেপি-কে রুখতে এই জোটের পক্ষে মত দিয়েছেন, তার জন্য কংগ্রেস সভানেত্রীকে তিনি ধন্যবাদ দেন।

এনসিপি নেতা জিতেন্দ্র আওহাদ বলেন, এখানেই সব বিধায়ক মিলে এককাট্টা হয়ে বিজেপিমুক্ত সরকার গড়ার শপথ নিতে হবে। এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার বলেন কর্নাটক, গোয়া বা মণিপুরের মতো মহারাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই সরকার গঠন করেছে বিজেপি। কিন্তু জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে কোনও অসুবিধা হবে না। তিনি আরও বলেন, দল থেকে যে সাসপেন্ড হয়েছে, সে কখনই দলকে নির্দেশ দিতে পারে না।  

আর বিজেপি থেকে আলাদা হওয়া শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, তাঁদের লড়াি ক্ষমতার জন্য নয়, সত্যের জয়ের জন্য। বিজেপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আমাদের যত ভাঙতে চাইবেন, ততই আমরা ঐক্যবদ্ধ হব'।

সবশেষে ১৬২ জন বিধায়ক একসঙ্গে শরদ পওয়ার, উদ্ধব ঠাকরে ও সনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে নিজ নিজ দলের প্রতি সৎ থাকার শপথ নেন। শপথবাক্যে আরও বলা হয়েছে. কোনও লোভেই পদস্খলন ঘটবে না, কিংবা এমন কিছু করবেন না, যা বিজেপি-কে লাভবান করবে।