কাঁধে ঘুমন্ত বাচ্চা। হাতে সুটকেস। কেউ পাড়ি দিয়েছেন দুশো কিলোমিটার। কেউ-বা একেবারে সাতশো কিলোমিটার! লকডাউনের সময়ে আতান্তরে পড়া এই হাজার-হাজার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কিন্তু কোনও উচ্চবাচ্য় করলেন মোদী, তাঁর মন-কি-বাত অনুষ্ঠানে।

গত কয়েকদিন ধরে সোশাল মিডিয়ায় ক্রমাগত ভাইরাল হয়ে চলেছে কিছু ভিডিয়ো। যেখানে দেখা যাচ্ছে, মাইলের-পর-মাইল হেঁটে চলেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কেউ দিনের আলোয়। কেউ -বা রাতের অন্ধকারে। কাঁধে ঘুমন্ত বাচ্চা নিয়ে ক্লান্ত মুখে  হেঁটে চলেছেন বাবা। সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে।  কোথাও আবার দেখা যাচ্ছে, রাতের অন্ধকারে মাথায় বোঝা নিয়ে মেয়ের হাত ধরে হেঁটে চলেছেন মহিলা শ্রমিক। পরিবারের কোনও পুরুষ নেই সঙ্গে। উত্তরপ্রদেশের এক অতি উৎসাহী পুলিশকর্মী আবার কয়েকশো মাইল হেঁটে আসা ওই শ্রমিকদের ব্য়াঙের মতো লাফ দিয়ে-দিয়ে হাঁটাচ্ছেন। ওটাই নাকি শাস্তি। কোথাও আবার বেধড়ক লাঠি পেটাও করা হচ্ছে তাঁদের।  যদিও, দু-দিন ধরে পেটে দানাপানি কিছু পরেনি এমন পরিযায়ী শ্রমিকদের রাস্তার মধ্য়ে বসিয়ে যত্ন করে খেতে দেওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছে। তবে তা নেহাতই ব্য়তিক্রমী। এরই মধ্য়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্য়ুর খবরও পাওয়া গিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সংখ্য়াটা আরও বাড়বে। অভুক্ত শরীরে যেভাবে লোকে মাইলের-পর-মাইল পাড়ি দিচ্ছে, তা আবার দেশভাগের দুঃস্মৃতিকেও উসকে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতেই শনিবার দিল্লি আর উত্তরপ্রদেশের সীমান্তে বাস ধরার জন্য় কয়েকহাজার শ্রমিক ঘেঁষাঘেঁষি করে একত্রিত হন একসঙ্গে। যে ছবি দেখে রীতিমতো শিউরে ওঠে গোটা দেশ। প্রশ্ন ওঠে, বিদেশ থেকে বিমানে করে যেখানে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে প্রবাসী ভারতীয়দের, সেখানে দেশের মধ্য়েই পরিযায়ী শ্রমিকরা এমন দুর্দশার শিকার হচ্ছেন কেন?

কেউ কেউ আশা করেছিলেন, রবিবার সকাল এগারোটায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন-কি-বাত অনুষ্ঠানে এই বিপন্ন মানুষগুলোকে নিয়ে কিছু অন্তত বলবেন। কিছু অন্তত ভরসা জোগাবেন। কিন্তু প্রায় আধঘণ্টার লাইভে কোথাও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য় একটা শব্দও খরচ করতে দেখা যায়নি তাঁকে।