তৃণমূলের সঙ্গে জোট বা সংযুক্তিকরণের কোনও কথাই চলছে না, সাফ জানিয়ে দিল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল।

দিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সঙ্গে কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণের কোনও আলোচনাই হচ্ছে না। সাফ জানিয়ে দিলেন এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল। দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের বাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর থেকেই জল্পনা ছড়ায়। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, মমতাকে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেণুগোপাল এই খবর পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দলের অন্দরে এমন কোনও কথাই হয়নি। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দল একসঙ্গেই এগোবে, এটাই ঠিক হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শিবসেনা নেতার পরামর্শে জল্পনা

নির্বাচনে হারের পর এমনিতেই বেশ চাপে রয়েছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির കരുനീക്കത്തിൽ (কৌশলী চালে) একের পর এক সাংসদ-বিধায়ক দল ছাড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই তৃণমূলকে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত তো প্রকাশ্যে বলেই দিয়েছেন, বিজেপির চাল ভেস্তে দিতে তৃণমূলের উচিত কংগ্রেসে মিশে যাওয়া। এর মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করায় জল্পনা আরও জোরালো হয়। ২০২১ সালের পর এই প্রথম ১০ জনপথে গিয়ে সোনিয়ার সঙ্গে দেখা করলেন মমতা। তবে এই বৈঠকের আসল উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে মমতা বা তৃণমূল কেউই মুখ খোলেনি। কংগ্রেসও বিষয়টি অস্বীকার করায় সংযুক্তিকরণের সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে হচ্ছে।

বিদ্রোহীদের সংখ্যা বাড়ছে

এদিকে, তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন রোখার চেষ্টায় এখনও সফল হননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। সম্প্রতি কলকাতায় মমতার ডাকা বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরেও ইউসুফ পাঠান দিল্লিতে এসে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তবে দলত্যাগ-বিরোধী আইন এড়াতে যে ২০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন, তা বিদ্রোহীদের কাছে আছে কি না, সেই নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে সংখ্যা প্রমাণ করার কথা বললেও, এখনও তা হয়নি। যদিও মমতা শিবিরের নেতা কীর্তি আজাদের দাবি, 'অপারেশন লোটাস' সফল হয়নি।