ভারতের এক ইঞ্চিও জমি কেউ দখল করতে পারেনি। কেউ অনুপ্রবেশ করেনি ভারত ভূমিতে। ভারতের একটি সেনা ঘাঁটিও দখল হয়নি। শুক্রবার ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধ নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের পর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে সাফ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তাঁর এই মন্তব্যে তৈরি হল নতুন বিতর্ক। তাহলে কি চিনই ঠিক কথা বলছে?

এদিন সর্বদলীয় বৈঠকের পর চিনের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই বিষয়ে কিছু না জানালেও সীমান্তে ঠিক কি চলছে, সেই বিষয়ে দেশবাসীকে জানালেন প্রধানমমন্ত্রী মোদী। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি গত বেশ কয়েকদিন ধরে নাগারে প্রশ্ন করে যাচ্ছিল, চিন কি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পড়েছে?

সেই সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নরেন্দ্র মোদী চিনের নাম না করে জানান, না কেউই ভারতের এক ইঞ্চিও জমি দখল করতে পারেনি। তিনি বলেন, বর্তমানে ভারতের সামরিক পরিকাঠামো অনেক উন্নত হয়ে গিয়েছে। আগে যেসব জায়গায় নজরদারি চালানো যেত না। সেইসব জায়গাতেও এখন নজরদারি চালানো যাচ্ছে। আগে যেসব জায়গায় বহিরাগতরা নিশ্চিন্তে ঘুরে বেরাতেন, সেইসব জায়গাতেও এখন টহলদারি চালাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেইসঙ্গে তাদের যা যা চাহিদা রয়েছে, সরকার তা পূরণ করেছে।

কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম মন্তব্য়  নিয়েই তৈরি হয়েছে বিশাল বিতর্ক। কংগ্রেস নেতা মনীশ তিওয়ারি-সহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, চিন যদি ভারতের সীমান্তের ভিতরে ঢুকে না আসে, তাহলে গত সোমবার রাতে তাহলে চিন সেনার সঙ্গে ভারতীয় সেনার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হল কোথায়? কোথায় ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হলেন? ভারতের মাটিতে যদি তা না হয়, তাহলে কোথায় হল সেই সংঘর্ষ? চিনের মাটিতে? তাহলে কি চিনা কর্তৃপক্ষ ও চিনা সংবাদমাধ্যম যা দাবি করছে, সেটাই ঠিক? ভারতীয় সেনা চিনের সীমানায় ঢুকে পড়েছিল এবং চিনের মাটিতেই হয়েছে সেই সংঘর্ষ?

বস্তুত, ভারত ও চিনের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে বরাবরই দ্বন্দ্ব রয়েছে। ভারত যাকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা মনে করে, চিন তা মানে না। আবার চিন যাকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বলে, তা ভারত মানে না। এই দুই রেখার মাঝের এলাকাটির দখল নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিতর্কিত জায়গাতেই সংঘর্ষে জড়িয়েছিল ভারত-চিন সেনা। কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এইদিনের দাবিতে চিনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাকেই মেনে নেওয়া হল।