২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে রাজ্যে সোনা অনুসন্ধানের কাজ জোরদার করা হয়। ২০২৫ সালের প্রাথমিক রিপোর্টে এই তিন জেলায় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬৮৫ কেজি সোনার আকরিকের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

Mayurbhanj Gold Discovery: একেবারে সোনায় সোহাগা যাকে বলে। রাতারাতি বড়লোক হওয়াও বলা যায়। ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় প্রায় দেড় টন সোনার সন্ধান মিলল। ভারতের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা Geological Survey of India (জিএসআই)-র জি-২ স্তরের সমীক্ষায় মাদানসাহী-কাঞ্জিয়া এলাকায় মোট ১ হাজার ৪৬২ কেজি ৭৩০ গ্রাম সোনার ভাণ্ডার আছে বলে জানিয়েছেন। ওডিশা বিধানসভায় এমন তথ্য জানিয়েছেন ওড়িশার বাণিজ্য ও পরিবহণমন্ত্রী বিভূতভূষণ জেনা (Bibhuti Bhusan Jena)। ওডিশার মন্ত্রী জানান, ময়ূরভঞ্জ ছাড়াও দেওগড়ের আদাস-রামপল্লি এলাকা এবং কেওনঝরের গোপুর-জলাদিহি বেল্টেও সোনার ভাণ্ডার চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে রাজ্যে সোনা অনুসন্ধানের কাজ জোরদার করা হয়। ২০২৫ সালের প্রাথমিক রিপোর্টে এই তিন জেলায় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬৮৫ কেজি সোনার আকরিকের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

এবার পালা নিলামের

বর্তমানে কেওনঝর, ময়ূরভঞ্জ, সুন্দরগড়, কোরাপুট, মালকানগিরি, অঙ্গুল, বৌধ, সম্বলপুর ও দেওগড়, ওডিশার এই মোট নয়টি জেলায় সোনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়ূরভঞ্জের জশিপুর, সুরিয়াগুড়া, রুয়াঁসি, ইদেলকুচা, মারেদিহি, সুলেইপাট ও বাদামপাহাড় এলাকাতেও সমীক্ষা চলছে। মোহন চরণ মাঝির সরকার মাদানসাহী-কাঞ্জিয়া ব্লক (প্রায় ৩০০ হেক্টর, সোনা ও তামার সম্ভাবনা) এবং কেওনঝরের আরও একটি ব্লক-সহ একাধিক খনি ব্লক নিলামে তোলার পরিকল্পনা করেছে। ২০২৬ সালে ঘোষিত ৪৯টি খনি ব্লকের ক্যালেন্ডারের অংশ হিসেবে এই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

জয় জগন্নাথের রাজ্যে 'লুকিয়ে' আছে আরও সোনা!

লৌহ আকরিক ও ক্রোমাইট খনিতে ওডিশা ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম শীর্ষ রাজ্য। এবার সোনার ভাণ্ডার আবিষ্কারের ফলে রাজ্যের খনিজ সম্পদের ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হতে চলেছে। বর্তমানে ভারত প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ সোনা আমদানির উপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওড়িশায় বৃহৎ পরিসরে খনন শুরু হলে আমদানি নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকার প্রেক্ষাপটে এই আবিষ্কার ওডিশার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা ও নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হলে খনি কার্যক্রম শুরু হতে পারে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।