লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিধায়কদের গণতন্ত্রের ঐতিহ্য বজায় রেখে মানুষের স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত'-এর স্বপ্ন পূরণ করতে হলে একটি উন্নত পশ্চিমবঙ্গ অপরিহার্য। রাজনৈতিক मतभेद ভুলে তিনি সকলকে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেন।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের গণতন্ত্রের ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুনত্বের সঙ্গে নিজেদের জুড়তে হবে এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কাজ করতে হবে। তাঁর কথায়, ২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত' গড়ার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে একটি উন্নত পশ্চিমবঙ্গ থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানান

এখানে নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য আয়োজিত দু'দিনের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বিড়লা বলেন, প্রত্যেক বিধায়ক শুধু তাঁর নিজের কেন্দ্রের নন, বরং গোটা রাজ্যের মানুষের সম্মিলিত ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি সদস্যদের রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার ডাক দেন।

পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরে লোকসভার স্পিকার বলেন, ভারতের সমাজ সংস্কার আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক নবজাগরণে এই রাজ্যের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। 'বন্দে মাতরম' স্লোগানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে এক নতুন শক্তি জুগিয়েছিল। তাই বিধায়কদের রাজ্যের এই ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক চেতনা এবং সাংস্কৃতিক নবজাগরণকে রক্ষা ও সমৃদ্ধ করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

নতুন বিধায়কদের জন্য পরামর্শ

বিড়লা প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কদের পরামর্শ দেন, তাঁরা যেন অভিজ্ঞ সদস্যদের কাছ থেকে ক্রমাগত শেখেন, বিধানসভার পুরনো অধিবেশনের কার্যবিবরণী অধ্যয়ন করেন এবং নিজেদের আইনি দক্ষতা বাড়িয়ে তোলেন। তিনি জনপ্রতিনিধিদের নতুন ধারণা গ্রহণ করার এবং শাসনব্যবস্থায় উদ্ভাবনী পদ্ধতি অবলম্বন করার জন্য উৎসাহিত করেন।

প্রশাসনের সঙ্গে প্রযুক্তিকে জুড়তে হবে

শাসনব্যবস্থায় প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার উপর জোর দিয়ে বিড়লা বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং ডিজিটাইজেশনের এই যুগে বিধায়কদের নিজেদের আপডেট রাখতে হবে। তবেই তাঁরা প্রশাসনের নতুন চ্যালেঞ্জ এবং মানুষের প্রত্যাশা কার্যকরভাবে পূরণ করতে পারবেন।

সংসদীয় আচরণের মূল কথা

তিনি সদস্যদের বিধানসভার কার্যধারায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এর জন্য যতটা সম্ভব অধিবেশনে উপস্থিত থাকা এবং অন্য বিধায়কদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার কথাও বলেন।

বিড়লা আরও বলেন, শুধু কথা বললেই হবে না, অন্যদের কথা শুনতে হবে, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হবে এবং গঠনমূলক সমাধান দিতে হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিতর্ক এবং মতবিরোধ স্বাভাবিক, কিন্তু তা সর্বদা মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সংসদীয় ঐতিহ্য মেনে হওয়া উচিত।

তাঁর মতে, বিধায়কদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষদের সমস্যা সমাধান করা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণই তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

তিনি 'বিকশিত ভারত ২০৪৭'-এর লক্ষ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রতিটি রাজ্য উন্নয়নের পথে না এগোলে এই জাতীয় লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

প্রশিক্ষণ শিবির সম্পর্কে

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক ও সংখ্যালঘু মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস।

এই প্রশিক্ষণ শিবিরটি ২০২৬ সালের ৪ জুলাই শেষ হবে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ঐতিহাসিক চেম্বারে রাজ্যপাল আর.এন. রবি সমাপনী ভাষণ দেবেন। ওই অধিবেশনে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, হরিয়ানার রাজ্যপাল অধ্যাপক অসীম কুমার ঘোষ, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখবেন।

লোকসভা সচিবালয়ের পার্লামেন্টারি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসিস (PRIDE) এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল নবনির্বাচিত বিধায়কদের সংসদীয় ও আইনি কাজকর্ম, যেমন কমিটি ব্যবস্থা, আর্থিক তদারকি, সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা এবং আইনসভায় নতুন ডিজিটাল উদ্যোগগুলির সঙ্গে পরিচিত করানো।