দিল্লির অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে শনিবার কথা বলেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। জানতে চেয়েছিলেন তাঁদের সমস্যার কথা। রবিবারই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন রাহুল গান্ধীকে একহাত নেন।  তিনি কংগ্রেস সাংসদের উদ্দেশ্যে বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে রাস্তায় বসে- দাঁড়িয়ে- হেঁটে সময় নষ্ট না করে তাঁদের সুটকেস বয়ে নিয়ে যাওয়াই ভালো। কংগ্রেস শাসিত রাজ্যগুলি  কেন্দ্রের কাছে আরও বেশি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের আর্জি জানান। যাতে প্রবাসী শ্রমিকরা আরও তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারেন। শনিবারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গতকাল যেটা হয়েছে সেটা নাটকের বেশি আর কিছুই নয়। তিনি আরও বলেন কেন্দ্র যেখানে ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের কথা ঘোষণা করছে সেখানে রাহুল গান্ধী অভিবাসীদের সঙ্গে বসে নাটক করছেন। 

রাহুলের পাশাপাশি সনিয়া গান্ধীকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তিনি বলেন অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি আরও দায়িত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা উচিৎ। পঞ্চম তথা শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা বিরোধীদের কাছে অভিবাসী শ্রমিক ইস্যুটি ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা আবেদন জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নির্মলা সীতারমন,  সনিয়া গান্ধীর কাছে হাত জোড় করে অভিবাসীদের সমস্যা নিয়ে  রাজনীতি না করার  আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অভিবাসী সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করা উচিৎ। আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া উচিৎ। 

২৫ মার্চ লকডাউন শুরু হওয়ার কিছু দিন পরেই অভিবাসী শ্রমিক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি। প্রথম থেকেই অভিবাসীদের হাতে নগদ টাকা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।  কেন্দ্রীয় সরকার ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার পরেও শনিবার নিদের দাবিতে অনড় ছিলেন রাহুল। অভিবাসীদের বাড়ি ফেরার সমস্যা সমাধানে ট্রেনের ভাড়া দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তারপরই আসরে নেমে বিজেপি। রেলমন্ত্রকের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান হয়েছিলে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের ৮৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে রেল। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে অভিবাসী শ্রমিক ইস্যুতেই কংগ্রেসকে এক হাতে নিলেন নির্মলা সীতারমন। তেমনই মনে করেছে রাজনৈতিক মহল। 

আরও পড়ুনঃ ভারত কি টপকে যাবে ইরানকেও, করোনা সংক্রমণে মহারাষ্ট্রের পরই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে গুজরাত ...

আরও পড়ুনঃ গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়াতে মনরেগায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর ...

আরও পড়ুনঃ মাইলের পর মাইল হেঁটেই চলেছেন 'ওঁরা', তৃতীয় দফার লকডাউনের শেষ দিনেও ছবিটা একই ...