ওঁদের ফেসবুক প্রোফাইলে ওঁরা কেউ নিজেদের ছবি দিয়ে লিখছেন না-- আই কান্ট স্টে অ্য়াট হোম। অথচ করোনার ত্রাসে  বিপদ মাথায় করে ওঁরা কাজ করে চলেছেন প্রতিদিন।  অতিমারীর মরশুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওঁরা পরিচ্ছন্ন রাখছেন আমাদের পথঘাট আর আমাদের চারপাশ। লকডাউনের বাজারে যদি কাজ বন্ধ করে দিতেন ওঁরা, তাহলে পাড়ায় পাড়ায় ডাঁই হয়ে পড়ে থাকত জঞ্জাল। আর সেই অপরিচ্ছন্নতার সুযোগ নিয়ে হয়তো-বা আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠতো করোনা।

ওঁরা হলেন সাফাইকর্মী। যদিও পুলিশ বা ব্য়াঙ্ককর্মীরা এই সময়ে কাজ করার জন্য় নেটিজেনদের কাছে যে বাড়তি সম্মান পাচ্ছেন,  ওঁরা কিন্তু তা পাচ্ছেন না। আমরা যেন ওদের টেকেন ফর গ্রান্টেড করে নিয়েছি। অথচ, বলাই বাহুল্য়, এই বিপজ্জনক সময়ে সাফাই কর্মীরা যদি একবার কাজ বন্ধ করে দেন, তাহলে কী নাজেহাল অবস্থাতেই-না  পড়তে হবে আমাদের।

আশার কথা, কেউ অন্তত ওঁদের কথা ভাবলেন এবার। ওঁদের কাজের জন্য় কুর্নিশ জানালেন। পাঞ্চাবের নাভা টাউনের একটি দৃশ্য় সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সম্প্রতি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সকালবেলায় পাড়ার ভেতর নিজের সাইকেল ভ্য়ান নিয়ে ঢুকছেন এক সাফাইকর্মী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন  আরও একজন। আচমকা কেউ ছাদের ওপর থেকে ফুলের পাঁপড়ি ছুড়ে দিলেন ওঁদের মাথার ওপর। তারপর পাড়াসুদ্ধ লোক ছাদে দাঁড়িয়ে সমবেতভাবে হাততালি দিতে শুরু করলেন।  এরই ফাঁকে বাড়ি থেকে মাস্ক পড়ে বেরিয়ে এলেন একজন। নোট দিয়ে গাঁথা মালা পরিয়ে দিলেন ওই সাফাই কর্মীর গলায়। কেউ-বা পরিয়ে দিলেন ফুলের মালাও। হাততালির শব্দে ম-ম করছে গোটা পাড়া। তখনও।