- Home
- India News
- Petrol Diesel Price: লিটারে ৪ থেকে ৫ টাকা বাড়তে পারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম, এই দিন থেকেই
Petrol Diesel Price: লিটারে ৪ থেকে ৫ টাকা বাড়তে পারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম, এই দিন থেকেই
ভারতে জ্বালানির দাম ১৫ মে-র আগেই বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্রকে উদ্ধৃত করে 'ইন্ডিয়া টুডে' জানিয়েছে, তেল বিপণন সংস্থাগুলো (OMCs) বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ভারতে জ্বালানির দাম ১৫ মে-র আগেই বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্রকে উদ্ধৃত করে 'ইন্ডিয়া টুডে' জানিয়েছে, তেল বিপণন সংস্থাগুলো (OMCs) বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছনোর পর এই চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও জ্বালানির বোঝা নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছে সরকার ও তেল বিপণন সংস্থাগুলো (OMCs)।

তীব্র সঙ্কট সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা বা চাপ অনেকাংশেই নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে যে, সরকার এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলো (OMCs) প্রতি লিটার পেট্রোলের ক্ষেত্রে প্রায় ২৪ টাকা পর্যন্ত লোকসানের বোঝা বহন করছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৭০ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে তা প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর প্রধান কারণ হল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, পণ্য পরিবহনের ঝুঁকি এবং পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। চলমান যুদ্ধের কারণে 'হরমুজ প্রণালী'র (Strait of Hormuz) স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটেছে—যে পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়—যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে এক ব্যাপক সঙ্কট বা 'এনার্জি শক' সৃষ্টি হয়েছে।
যদি কেন্দ্রীয় সরকার এই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করে, তবে দেশে জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দামও প্রতি সিলিন্ডারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদি এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়, তবে গত প্রায় চার বছরের মধ্যে জ্বালানির দামে এটিই হবে প্রথম কোনও বড় ধরনের সংশোধন বা পরিবর্তন।
যখন অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে, তখন কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ তেল বিপণন সংস্থাগুলো (OMCs) সেই লোকসানের বোঝা বহন করেছিল; যার পরিমাণ ছিল প্রতি লিটার পেট্রোলে প্রায় ২৪ টাকা এবং প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৩০ টাকা। এমনকি আবগারি শুল্ক বা 'এক্সাইজ ডিউটি'র ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার পরেও ইন্ডিয়ান অয়েল (Indian Oil), ভারত পেট্রোলিয়াম (Bharat Petroleum) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের (Hindustan Petroleum) মতো তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে, কেন্দ্রীয় সরকার অপরিশোধিত তেলের আমদানিতে বৈচিত্র্য এনেছে এবং রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অধিক পরিমাণে তেল আমদানি শুরু করেছে। জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের তেল শোধনাগারগুলোকে তাদের পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা বা ১০০ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।