CBSE-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে পড়ুয়াদের হয়রানির অভিযোগ। এই নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। পড়ুয়াদের 'দেশবিরোধী সোরোসের এজেন্ট' বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ তুলে বিজেপিকে একহাত নিলেন তিনি।

CBSE-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার মূল্যায়ন এবং রেজাল্ট বেরোনোর পর পড়ুয়ারা যে সব সমস্যার মুখে পড়ছেন, তা নিয়ে ফের একবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার তিনি অভিযোগ করেন, প্রশ্ন তোলার জন্য কিছু ছাত্রছাত্রীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিশানা করা হচ্ছে। যা নিয়ে তিনি বিজেপিকেও নিশানা করেন। অতীতে বিজেপির পক্ষ থেকে আমেরিকান ধনকুবের জর্জ সোরোসের সঙ্গে রাহুলের যোগাযোগ থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। যদিও কংগ্রেস সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এবার সেই প্রসঙ্গ টেনেই বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারকে পাল্টা বিঁধলেন রাহুল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ

এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, "আমার 'দেশবিরোধী সোরোস এজেন্ট' বন্ধুদের সঙ্গে একটি মন খুলে আড্ডা হল। বেদান্ত এবং তার বন্ধুরা অত্যন্ত মেধাবী ও সাহসী ভারতীয় তরুণ, যারা CBSE এবং মোদী সরকারকে সাধারণ কিছু প্রশ্ন করেছিল। কিন্তু উত্তরের বদলে তারা পেয়েছে অপমান। ওদের একটা উজ্জ্বল ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ প্রাপ্য। আমরা নিশ্চিত করব যাতে তারা সেটা পায়।" এই পোস্টের সঙ্গে পড়ুয়াদের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি ভিডিও-ও শেয়ার করেন রাহুল। আলোচনার সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, "সোরোস? এখানেও সোরোস ঢুকে পড়েছে। পাকিস্তান, সোরোস...সবাইকে এর মধ্যে টেনে আনা হয়েছে।"

পড়ুয়াদের অভিযোগ

এক পড়ুয়া জানান, ফিজিক্সের উত্তরপত্রের কপি হাতে পাওয়ার পর তিনি দেখেন যে, "তার একটি অংশে তার নিজের হাতের লেখা নেই।" ওই পড়ুয়া আরও বলেন, তিনি বিষয়টি এক্স-এ পোস্ট করার পর তা সকলের নজরে আসে, কিন্তু এরপরই তাদের নিশানা করা শুরু হয়।

রাহুলের আক্রমণ

অন্য একটি পোস্টে রাহুল সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, "CBSE-র মে ২০২৫-এর টেন্ডারে বলা হয়েছিল, অটোমেটিক রোবোটিক স্ক্যানার দিয়ে উত্তরপত্র স্ক্যান করতে হবে, খাতার স্পাইন অক্ষত রাখতে হবে এবং রেজোলিউশন কমপক্ষে ৩০০ ডিপিআই হতে হবে। কিন্তু অগাস্টে যখন আবার টেন্ডার ডাকা হয়, তখন চুপচাপ সব নিয়ম সরিয়ে দেওয়া হয়। 'স্ক্যানার' শব্দটি সাধারণ হয়ে যায়। রেজোলিউশন কমিয়ে ২০০ ডিপিআই করা হয়।" তিনি আরও বলেন, "এখন আমরা জানি বাস্তবে এর মানে কী। এটা সামনে এসেছে যে COEMPT মোবাইল ফোন ব্যবহার করে উত্তরপত্র স্ক্যান করেছে। ঝাপসা কপি, উধাও হয়ে যাওয়া পাতা, স্ক্যান না হওয়া খাতা - এগুলো কোনও 'ভুল' নয়। এগুলো আসলে একটি নির্দিষ্ট ভেন্ডরকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা চুক্তির predictable ফলাফল। এটা একটা জালিয়াতি। এবং ভুল মূল্যায়নের শিকার প্রত্যেকটি পড়ুয়া এর ভুক্তভোগী।"

কংগ্রেস নেতার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ

রাহুল বলেন, "আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আম নিয়ে কথা বলার সময় ছিল। কিন্তু ১৮.৫ লক্ষ পড়ুয়ার উত্তরপত্র যে ফোন দিয়ে স্ক্যান করা হয়েছে, তা নিয়ে কথা বলার সময় তাঁর হয়নি। ধর্মেন্দ্র প্রধানজি এখনও নিজের পদে বসে আছেন। মোদীজির নীরবতা এখন আর উদাসীনতা নয়। এটা আসলে ষড়যন্ত্রে মদত দেওয়া।"

CBSE-র দাবি

এদিকে, অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের মধ্যেই সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) রবিবার জানিয়েছে, তারা তাদের পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার 'অনমার্ক' পোর্টালে চিহ্নিত দুর্বলতাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করেছে।

এক্স-এ একটি পোস্টে CBSE জানায়, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IITs)-র সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল গত কয়েকদিন ধরে প্ল্যাটফর্মটিকে সুরক্ষিত করার জন্য কাজ করছে। CBSE আরও জানিয়েছে, চিহ্নিত দুর্বলতাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং সিস্টেমে যাতে আর কোনও দুর্বলতা না থাকে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

বোর্ড সতর্ক নাগরিক এবং নৈতিক হ্যাকারদের ধন্যবাদ জানিয়েছে, যারা সম্ভাব্য নিরাপত্তা সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন। বোর্ড জানিয়েছে, তারা সরাসরি তাদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। CBSE-র পক্ষ থেকে বলা হয়, "আমাদের পরিষেবা প্রদানকারীর অনমার্ক পোর্টালে যে দুর্বলতাগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে, আমরা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সরকারি বিভিন্ন শাখা এবং আইআইটি থেকে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল গত কয়েকদিন ধরে সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে। চিহ্নিত দুর্বলতাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং অন্য কোনও দুর্বলতা যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা সমস্ত সতর্ক নাগরিক এবং নৈতিক হ্যাকারদের কাছে কৃতজ্ঞ, যারা এই ধরনের দুর্বলতাগুলো দেখিয়েছেন। আমরা তাদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছি।"

এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এল, যখন CBSE তার পোস্ট-রেজাল্ট পোর্টালে প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা এবং মূল্যায়িত উত্তরপত্রে গরমিলের অভিযোগের কারণে প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে।