মুম্বইতে একশো ছাড়িয়েছে পেট্রলের দাম। পাল্লা দিচ্ছে কলকাতাও। মাসের শুরুতেই মঙ্গলবার ফের বাড়ল জ্বালানির দাম। চৌঠা মের পর থেকে এই নিয়ে ১৭ বার দাম বাড়ল জ্বালানির। মঙ্গলবার ফের শহরে বেড়েছে পেট্রল ডিজেলের মূল্য। তেলপ্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি নতুনভাবে তেলের দাম নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিতেই তেলের দাম বাড়ে দেশের চার মেট্রো শহরে। মঙ্গলবার কলকাতায় তেলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৫ টাকায়। পেট্রলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪.৫০ টাকা। ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৮.২৩ টাকায়। 

মঙ্গলবার পেট্রলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ পয়সা। ডিজেলের দাম বেড়েছে ২৩ পয়লা। কলকাতাতেও কি এবার সেঞ্চুরি হাঁকাবে জ্বালানির দাম, প্রশ্ন উঠছে। মুম্বইতে ইতিমধ্যেই ১০০ টাকার ঘর ছুঁয়েছে প্রতি লিটার পেট্রল। ২৯শে মে ১০০ টাকার ঘর ছোঁয় জ্বালানি।  

শহর             পেট্রোল     ডিজেল 

কলকাতা         ৯৪.৫০     ৮৮.২৩
দিল্লি               ৯৪.৪৯    ৮৫.৩৮
মুম্বই               ১০০.৭২   ৯২.৬৯
চেন্নাই             ৯৫.৯৯   ৮৮.২৩

একদিকে করোনা আতঙ্ক, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানির দাম। সব মিলিয়ে প্রাণ জেরবার সাধারণ মানুষের। একদিন দুদিন অন্তর জ্বালানির দাম বাড়ায় বেশ ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। শুধু মুম্বই নয়, পেট্রল ১০০ টাকার ঘর ছাড়িয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের একাধিক শহরেও। বিভিন্ন রাজ্যে পেট্রল ডিজেলের দামের তারতম্যের কারণ রাজ্য সরকার নির্ধারিত শুল্ক ও ভ্যাট। 

এই নিয়ে পরপর দুদিন বাড়ল জ্বালানির দাম। সোমবার ২৮ পয়সা বেড়েছিল প্রতি লিটার পেট্রল। দাম দাঁড়ায় লিটারপ্রতি ৯৪ টাকা ২৫ পয়সা। ডিজেলের দাম লিটারে ২৬ পয়সা বেড়ে হয়েছিল ৮৮ টাকা। 

উল্লেখ্য, জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ব বাজারের অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর নির্ভর করে। বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি হলে ভারতীয় বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে। কিন্ত বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একই রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দামও নিন্মগামী। কিন্তু তারপরেও ভারতীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকার অত্যাধিক কর আরোপ করায় সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো বিক্রির ওপর একাধিক শুল্ক আরোপ করে। পোট্রোর ওপর ৬০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।

ডিজেলের শুল্কের পরিমাণ ৫৪ শতাংশ। যদি কোনও গ্রাহক এক লিটার পেট্রোলের ১০০ টাকায় কেনেন তাহলে ৩৩ টাকা পায় কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যও জ্বালানি তেলের ওপর সেস ও সারচার্জ বসায়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে পাহাড় প্রমাণ এই করের বোঝার হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রেহাই দেওয়া জন্য পেট্রোল ও ডিজেলকে জিএসটি  তালিকাভুক্ত করা। কিন্তু আপাতত কেন্দ্রীয় সরকারের তেমন কোনও পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।