প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, গাল্ফ সংকটের কারণে তৈরি হওয়া এলপিজি ঘাটতি মেটাতে ভারত সবরকম চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু লোক আতঙ্ক ছড়িয়ে নিজেদের অ্যাজেন্ডা পূরণের চেষ্টা করছে। জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব এবং ইথানল মিশ্রণের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দিল্লি: গাল্ফ বা উপসাগরীয় অঞ্চলে সংকটের কারণে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি-র সরবরাহে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে ভারত সবরকম চেষ্টা করছে। তবে কিছু লোক এই পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে নিজেদের অ্যাজেন্ডা চালাচ্ছে। দিল্লিতে নেক্সট (NXT) সামিট ২০২৬-এ ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই কথা বলেন। তিনি জানান, গাল্ফ অঞ্চলের সংকট সব জায়গাতেই প্রভাব ফেলছে এবং ভারত এই সমস্যা সমাধানের জন্য সম্ভাব্য সব পথ খতিয়ে দেখছে।

এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "আমি এখন তাদের নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু এটা না বলে পারছি না যে, এমনটা করে তারা জনগণের সামনে নিজেদের মুখোশ খুলে ফেলছে এবং গোটা দেশের বড় ক্ষতি করছে।" মোদী আরও বলেন, "আমরা বিভিন্ন স্তরে চেষ্টা চালাচ্ছি। সম্প্রতি বিশ্বের অনেক দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আমি আলোচনা করেছি। সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা দূর করার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চলছে।" যারা পরিস্থিতি का সুযোগ নিয়ে কালোবাজারে এলপিজি পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারতের দ্রুত উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন শক্তির উৎসকে উৎসাহ দেওয়া জরুরি। মোদী বলেন, বিশ্বের অনেক নেতাই বিশ্বজুড়ে ভারতের গুরুত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি জ্বালানি ক্ষেত্রে দেশের আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার চেষ্টার কথা আবারও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১১ বছরে ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের ক্ষমতার কারণে ভারতকে বিদেশ থেকে প্রায় ১৮ কোটি ব্যারেল অতিরিক্ত তেল কেনা থেকে বাঁচানো গেছে। তিনি জানান, "ইথানলের কারণে আমাদের প্রতি বছর প্রায় ৪.৫ কোটি ব্যারেল কম তেল আমদানি করতে হচ্ছে। শুধুমাত্র এর থেকেই দেশ প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা বাঁচাতে পেরেছে।"

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, "একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আমরা যেভাবে কোভিড সংকট থেকে দেশকে বের করে এনেছি, সেভাবেই এই বিশ্ব সংকটও আমরা কাটিয়ে উঠব।"