কোভিড কেড়ে নিচ্ছে প্রিয়জনকে। এমনকী এই অতিমারির জালে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছে হাজার-হাজার পরিবার। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়ে এরা। এইসব অসহায় ও দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার বিকেলে ঘোষণা করলেন কোভিড মৃত্যুতে পেনশন প্রকল্পের। যা এই অসহায় পরিবারগুলিকে শুধু অসহয়তা বা বিপদ থেকেই রক্ষা করবে না, এর ফলে এই পরিবারগুলি মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে টিকে থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এদিন প্রধানমন্ত্রী কোভিডে অনাথ হওয়া শিশুদের জন্য বিশেষ প্রকল্প এবং আর্থিক অনুদানের ঘোষণা করেন। এর পর পরই ইডিএলআই প্রকল্পে পেনশনের কথা জানান তিনি। 

আরও পড়ুন- কোভিডে অনাথদের পাশে প্রধানমন্ত্রী, বিনামূল্য শিক্ষার সাথে মিলবে ১০ লক্ষ টাকা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, এমপ্লয়িস স্টেট ইনসিউরেন্স কর্পোরেশন-এর আওতায় এই পেনশন মিলবে। এর জন্য এমপ্লয়িস স্টেট ইনসিউরেন্স কর্পোরেশন বা ইডিএলআই-এর নিয়মে বেশকিছু পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং কিছু বিধিনিষেধকে শিথিলও করা হচ্ছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক এই ইডিএলআই-এর আওতায় কি ভাবে এবং কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। দেখুন ভিডিও- বেহালায় অরবিন্দ পল্লি ক্লাবের উদ্যোগে অক্সিজেন পার্লার

এমপ্লয়িস স্টেট ইনসিউরেন্স কর্পোরেশন বা ইএসআইসি-এর আওতায় পেনশন- 
এর উদ্দেশ্য হল যাতে একটি পরিবার উপার্জনক্ষমকে কোভিড ১৯-এর প্রকোপে হারিয়ে অসহায় না হয়ে পড়ে। পরিবারগুলি যাতে এই প্রকল্পের আওতায় একটা সম্মানজনক জীবন-যাপনের অধিকার পায় তার জন্য এই প্রকল্প। এর জন্য এই প্রকল্পে মৃত্যু জনিত যে সব শর্তগুলো পূর্বে বলবত ছিল সেখানে কিছু বদল ঘটানো হচ্ছে। বিমায় মৃত্যুর শর্ত তালিকায় কোভিড ১৯-কেও আনা হয়েছে। এই বিমার আওতায় থাকা ব্যক্তির কোভিডে যদি মৃত্যু হয়, তাহলে তাঁর পরিবার ওই ব্যক্তির রোজকার আয়ের অন্তত ৯০ শতাংশ পেনশন পাবে। ২৪ মার্চ ২০২০ থেকে ২৪ মার্চ ২০২২-এর মধ্যেই আপাতত এই কোভিড পেনশন প্রকল্প কার্যকর হবে। 

দেখুন ভিডিও - 'বাংলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পা ধরতেও রাজি আছি', বিস্ফোরক মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী -র

এমপ্লয়িস প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন- এমপ্লয়িস ডিপোজিট লিঙ্কড ইনসিউরেন্স স্কিম বা ইডিএলআই--- 
ইডিএলআই স্কিমকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং এর নিয়ম-কানুনে অনেক শিথিলতা আনা হয়েছে। এই বিমার আওতায় থাকারা কোভিড ১৯-এর প্রকোপে প্রাণ ত্যাগ করেছেন তাদের পরিবারগুলি এর থেকে ভালোরকম  সুবিধা পাবে। কোভিড ১৯-এর সহায়তা প্রকল্পে এই স্কিমে বিমার অর্থ ৬ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ লক্ষ করা হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় নূন্যতম অর্থ আড়াই লক্ষ টাকা করা হয়েছে এবং এটি ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে তিন বছর পর্যন্ত লাগু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি ভিক্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের পরিবারকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিয়ে লাগাতার কর্মসংস্থানের যে নিয়ম রয়েছে তাতে বেশকিছু পরিবর্তন এনে তা শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে কোভিডে মৃত্যু হওয়ার ১ বছর আগেও যারা এক সংস্থা ছেড়ে অন্য সংস্থায় যোগ দিয়েছেন, তাদের পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সুবিধা এবং নিয়মাবলি কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দিয়েছে। সুতরাং যারা এই প্রকল্পের সুবিধা খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক তারা কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের ওয়েবসাইটেও চোখ রাখতে পারেন বিস্তারিত তথ্যের জন্য।