- Home
- India News
- India Monsoon: EL Nino সত্ত্বেও মৌসুমি বায়ুর দাপটে বৃষ্টির ঘনঘটা, এক সপ্তাহে বদল গোটা দেশের আবহাওয়া
India Monsoon: EL Nino সত্ত্বেও মৌসুমি বায়ুর দাপটে বৃষ্টির ঘনঘটা, এক সপ্তাহে বদল গোটা দেশের আবহাওয়া
INDIA MONSOON: এল নিনোর আশঙ্কা সত্ত্বেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর গতি বেড়ে যাওয়ায় মাত্র এক সপ্তাহে দেশের বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ৩৮% থেকে কমে দাঁড়াল ১৫%-এ। মুম্বাই, পুনে-সহ মহারাষ্ট্র জুড়ে রেকর্ড বর্ষণ, কী বলছেন আবহাওয়াবিদরা, জেনে নিন বিস্তারিত।

এল নিনোর আশঙ্কা উড়িয়ে বর্ষার প্রত্যাবর্তন
এল নিনোর আশঙ্কা সত্ত্বেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর গতি বেড়েছে বহুগুণ। ফলে মাত্র এক সপ্তাহেই দেশের বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ৩৮% থেকে তীব্রভাবে কমে নেমে এসেছে ১৫%-এ। আগামী দিনগুলিতে আরও বৃষ্টিরপূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন।

মুম্বইয়ে রেকর্ড বৃষ্টি
গত কয়েকদিনে মুম্বাই, পুনে ও মহারাষ্ট্রের একাধিক অংশে রেকর্ড পরিমাণ বর্ষার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য বলছে, চমকে দেওয়ার মতো পরিসংখ্যান উঠে এসেছে এই বৃষ্টিপাতে। বানভাসি অবস্থা তৈরি হয়েছে মুম্বইয়ে। জলমগ্ন প্রায় গোটা শহর।
কোলাবায় কত বৃষ্টি
১ জুন থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে মুম্বাইয়ের কোলাবা এলাকায় মোট ১৩৮৩.৮ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৮.৪% বেশি।
সান্তাক্রুজে বৃষ্টির নতুন নজির
একই সময়ে সান্তাক্রুজে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ১৫৩০.২ মিমি, যা এই সময়ের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে ৯৪.৪% বেশি। শহরের বৃষ্টির ইতিহাসে এটি এক উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান।
একাধিক রাজ্যে উন্নতি
শুধু মহারাষ্ট্র নয়, গুজরাট, কোঙ্কন ও গোয়া জুড়ে এবং মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা পর্যন্ত বর্ষার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। উত্তারখণ্ড, উত্তরপ্রদেশেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরপ্রদেশে কয়েকটি এলাকায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডে সরকারি কর্মীদের সতর্ক থাকা নির্দেশ দিয়েছে।
দেশজুড়ে ঘাটতি কমল
১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে। এক সপ্তাহ আগেও এই ছবিটা ছিল অনেকটাই আলাদা। আবহাওয়া দফতর আগেই জানিয়েছিল এন নিনোর প্রভাব থাকায় এবার বৃষ্টির ঘাটতি থাকতে পারে। কিন্তু আবহাওয়ার ভোল বদলে পরিস্থিতি ঘুরে যেতে পারে। তেমনই আশা করছে মৌসম ভবন।
এক মাস আগের পরিস্থিতি
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ১ জুলাইয়ের মধ্যে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছিল। গত এক সপ্তাহে বর্ষার গতি বাড়ায় এই ঘাটতি ২৩ শতাংশ পূরণ হয়ে গিয়েছে।
আবহাওয়াবিদের ব্যাখ্যা
ভারত আবহাওয়া বিভাগের প্রাক্তন মহাপরিচালক কে জে রমেশ জানিয়েছেন, এল নিনো গোটা বর্ষাজুড়ে বৃষ্টিপাতকে প্রভাবিত করবে, এমনটা জরুরি নয়। আরব সাগর ও নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগর উষ্ণ হওয়ায় বাষ্পীভবন ও আর্দ্রতার প্রবাহ বেড়েছে।
দুই আবহাওয়াগত সিস্টেমের প্রভাব
গত দশ দিনে পশ্চিমা ঝঞ্ঝার কারণে তৈরি হয়েছে মধ্য-ট্রপোস্ফেরিক ঘূর্ণিঝড় (এমটিসি), সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের উপর সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ। এই দুটি সিস্টেম পরস্পরকে শক্তি জুগিয়ে গুজরাট থেকে ওড়িশা পর্যন্ত ভালো বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে।
এল নিনোর প্রভাব প্রশমিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই আবহাওয়াগত পরিস্থিতিই এল নিনোর প্রভাবকে অনেকটা প্রশমিত করে দিয়েছে। যার ফলে মাত্র এক সপ্তাহে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ২৩ শতাংশ পূরণ হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলেও আশা।

