প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেশেলসে পৌঁছেছেন। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রকে 'মূল্যবান সামুদ্রিক সঙ্গী' ও 'ঘনিষ্ঠ বন্ধু' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এই সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার সেশেলসের রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় পৌঁছেছেন। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতেই তাঁর এই সরকারি সফর।

সেশেলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়, যা তাঁর এই সফরের জন্য একটি দারুণ সুর বেঁধে দেয়। বিমানবন্দরে নেমেই প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর সফরের বিষয়ে আশাপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে এটি একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফর হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদীর বার্তা
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সেশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনিকে "আন্তরিক ধন্যবাদ" জানান। নিজের পোস্টে তিনি সেশেলসকে "ভারত মহাসাগরের এক মূল্যবান সামুদ্রিক সঙ্গী" এবং "ঘনিষ্ঠ বন্ধু" হিসাবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, "ডঃ প্যাট্রিক হারমিনিকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। সেশেলস ভারত মহাসাগরে আমাদের এক মূল্যবান সামুদ্রিক সঙ্গী ও কাছের বন্ধু। আমি একটি ফলপ্রসূ সফরের অপেক্ষায় রয়েছি, যার লক্ষ্য আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং দুই দেশের মানুষের সুবিধার জন্য সহযোগিতা বাড়ানো।"
প্রধানমন্ত্রী মোদী এক্স-এ "বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার কিছু ঝলক" শেয়ার করে তাঁকে স্বাগত জানাতে আসা প্রবাসী ভারতীয়দের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি বলেন, "প্রবাসী ভারতীয়দের এই ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।"
৩ দিনের সফর
এই উষ্ণ অভ্যর্থনা দুই গণতান্ত্রিক দেশের মানুষের মধ্যেকার মজবুত সম্পর্ককেই তুলে ধরে। প্রধানমন্ত্রীর এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর এভাবেই শুরু হল। এই সফরটি সেশেলসের জন্য একটি বড় ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই দ্বীপরাষ্ট্রের জাতীয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর এটি সেশেলসের ৫০তম বর্ষপূর্তি।
সফরে রওনা হওয়ার আগে এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি এই সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে লিখেছিলেন, "এ বছর এটি আরও বিশেষ, কারণ এটি সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন।"
তিনি এই সফরের বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও ব্যাখ্যা করেন। সেশেলসকে "মূল্যবান সামুদ্রিক প্রতিবেশী" হিসাবে উল্লেখ করে তিনি নয়াদিল্লির 'ভিশন মহাসাগর' (MAHASAGAR) এবং 'গ্লোবাল সাউথ'-এর স্বার্থে ভারতের উদ্যোগগুলিতে এই দেশের ভূমিকার ওপর জোর দেন। বিমানবন্দরের অভ্যর্থনার পর সফরের মূল পর্বে রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনির সঙ্গে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক রয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, দুই নেতা ভারত-সেশেলস সম্পর্কের সমস্ত দিক, যেমন—সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উন্নয়নমূলক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও কথা বলবেন।
এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আগে ব্যক্তিগত সমীকরণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এক্স-এ একটি আপডেটে বলেন, "আমি আমার বন্ধু, সেশেলস প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ডঃ প্যাট্রিক হারমিনির সঙ্গে আলোচনার জন্য মুখিয়ে আছি।"
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী মোদী দুই দেশের গভীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তুলে ধরতে সেশেলসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে একটি ভাষণ দেবেন। তাঁর সফরের সম্পূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে নিজের উৎসাহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "সফরের সময় সেশেলসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভাষণ দিতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। আমি সেখানকার ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্যও উন্মুখ।"
বিদেশ মন্ত্রকের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে। এই সফর দুই দেশের মজবুত জোটকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের পর এটিই এই দ্বীপরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।


