Kunal Ghosh: তারাতলা গোডাউন ধসের ঘটনায় ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের আবহে তাঁর গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন কুণাল ঘোষ। শুভেন্দু অধিকারীকে বিকেল ৫টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
তারাতলা গোডাউন কাণ্ডে এবার কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করেছে ভারতীয় জনতা মজদুর সেল (BJMC)র দক্ষিণ কলকাতা শাখা। ফিরহাদের সঙ্গে কাউন্সিলর সামস ইকবালের নামেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু তারাতাল-কাণ্ড যত দিন যাচ্ছে ততই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ তারাতলাকাণ্ডকেই হাতিয়ার করছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি, বিশেষ করে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সৈনিক হিসেবে নিজেকে দাবি করে থাকেন কুণাল ঘোষ। তিনি তারাতলা গোডাউনকাণ্ডে ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেফতারের জন্য শুভেন্দু অধিকারীকে সময়সীমা বেঁধে দিলেন।

তারাতলাকাণ্ডে ফিরহাদ টোপ কুণালের?
তারাতলাকাণ্ডে ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেফতারের দাবি তুললেন কুণাল ঘোষ। শুধু তাই নয়, ফিরহাদকে গ্রেফতারের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। আজ বিকেলে কলকাতা পুরসভার বিক্ষুদ্ধ কাউন্সিলরদের সঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক রয়েছে। তার আগেই ফিরহাদকে গ্রেফতার করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।
কুণাল ঘোষ বলেন, 'ফিরহাদ হাকিম যদি কাউন্সিলরদের নিয়ে আজ বিকেলে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের মিটিংয়ে যান। তাহলে প্রমাণিত হবে মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভায় দেখানো কাগজ আসলে চাপ তৈরি করা। আর যদি বিকেল ৫ টার আগে ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে বুঝব শুভেন্দু অধিকারী হৃদয় থেকে, গরিব মানুষের জন্যে কথা বলছেন। অবিলম্বে বিকেল ৫ টার আগে ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেফতার করা উচিত। নাহলে বুঝতে হবে ন্যায়বিচারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথার সম্পর্ক নেই। বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রাখতে গ্রেফতার করতে হবে।'
কালীচরণ প্রসঙ্গে কুণাল
এখানেই থামেননি বেলেঘাটার তৃণমূলের বিধায়ক। তিনি আরও দাবি করেছেন, তারাতলা-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া পুরকর্তা কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদতে ফিরহাদ হাকিমেরই লোক। তিনি আরও বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে বারবার এই কালীচরণকে সরিয়ে দিতে বলা হয়েছিল৷ কালীচরণ যে পুরসভায় নিজস্ব চক্র চালাচ্ছেন, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছিল।' সবমিলিয়ে তারাতলাকাণ্ডে ফিরহাদ হাকিমকেই কাঠগড়ায় তুলতে মরিয়া চেষ্টা করছেন কুণাল ঘোষ।
তারাতলায় গোডাউনে ধস
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যে হয়েছে ১৯ জনের। এই ঘটনায় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন। তিনি বিধানসভা দাঁড়িয়ে দাবি করেন, তারাতলার ওই গোডাউনের যে বিল্ডিং প্ল্যান পুরসভা থেকে পাশ হয়েছিল তাতে মেয়র হিসেবে ফিরহাদ হাকিমেরই সই ছিল৷ যদিও নকসাতে গলদ ছিল বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু। পুরসভায় ফিরহাদের ডানহাত কালীচরণ নামে পুরকর্তা নিজের প্রভাব খাটিয়ে ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান পাস করিয়ে নেন। যদিও কালীচরণকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু গোটা ঘটনায় ফিরহাদ জড়িয়ে রয়েছে বলেই ঘটনার প্রথম দিনে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। আর মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছেন কুণাল। কারণ সদ্যোই শিবির বদল করেছেন ফিরহাদ হাকিম। মমতার আনুগত্য ছেড়ে তিনি চলে গিয়েছেন ঋতব্রত-শিবিরে। এখন প্রশ্ন শিবির বদল করেও কি বাঁচতে পারবেন ফিরহাদ?


