প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডাকা হঠাৎ এক উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে তুমুল শোরগোল। পশ্চিম এশিয়া সংকট, তেলের দাম, মুদ্রাস্ফীতি এবং মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সব মন্ত্রীকে দিল্লিতে থাকার কড়া নির্দেশে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

নয়া দিল্লি: দেশের রাজনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে টানটান উত্তেজনা। বিদেশ সফর থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজধানীতে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টেয় দিল্লির 'সেবা তীর্থ'-এ তিনি মন্ত্রিসভার এক অত্যন্ত জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। এই বৈঠকের গুরুত্ব এতটাই যে, সমস্ত কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রমন্ত্রীদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন কোনও অবস্থাতেই দিল্লি না ছাড়েন। কিন্তু হঠাৎ ডাকা এই বৈঠকের পিছনে আসল পরিকল্পনাটা কী?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পশ্চিম এশিয়ার বারুদ আর ভারতের উপর অর্থনৈতিক সংকটের ছায়া

এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং প্রথম এজেন্ডা হল কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষা। পশ্চিম এশিয়ায় (মিডল ইস্ট) লাগাতার বাড়তে থাকা সামরিক সংঘাত এবং ড্রোন হামলা বিশ্ব বাজারে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে গভীর আলোচনা হবে যে, যদি এই সংকট আরও বাড়ে, তাহলে ভারতের উপর তার কী প্রভাব পড়বে। সরকার এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, জ্বালানির জোগান ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেন) এবং দেশে মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক। যদিও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে থাকা উচ্চ-পর্যায়ের মন্ত্রীগোষ্ঠী—যাতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং অসামরিক বিমান ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী—আশ্বাস দিয়েছে যে, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল এবং এলপিজি-র বাফার স্টক মজুত আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে এবার দায়িত্ব নিয়ে এই 'চব্বিশ ঘণ্টার' নজরদারি ব্যবস্থার পর্যালোচনা করতে চলেছেন।

মোদী ৩.০-তে বড়সড় রদবদলের গুঞ্জন: কার চেয়ার থাকবে, কার ডানা ছাঁটা হবে?

এই বৈঠকের দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি পুরোপুরি রাজনৈতিক। আগামী ১০ জুন মোদী ৩.০ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি হতে চলেছে। এই মাইলফলকের ঠিক আগে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় একটি বড়সড় রদবদলের (Cabinet Reshuffle) জল্পনা এখন সত্যি হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের বড় দাবি: জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চেহারা অনেকটাই বদলে যেতে পারে। এই সম্ভাব্য রদবদলের ঠিক আগে, সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব বিভিন্ন মন্ত্রকের कामकाज, তাদের রিপোর্ট কার্ড এবং সাংগঠনিক পারফরম্যান্স কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছে। বিকেল ৪টের এই বৈঠক শুধু শাসন-প্রশাসনের পর্যালোচনাই নয়, বরং এটা একটা বড় ইঙ্গিত যে আগামী দিনে সরকারের নীতি এবং নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এই মুহূর্তে গোটা দেশের নজর দিল্লির 'সেবা তীর্থ'-এর দিকে।