PM Modi: সারা বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক অস্থিরতা চলছে, সেই পরিস্থিতিতে ভারতের বৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে জীবনযাত্রা ও ব্যবসা সহজ করার জন্য সংস্কার এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের (PM-Economic Advisory Council) সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসেন। গোটা বিশ্ব যখন অর্থনৈতিক টালমাটালের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিকে আরও কীভাবে চাঙ্গা করা যায়, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন ধারণা ও পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং দেশে ব্যবসা করার পরিবেশ আরও সহজ করতে কী কী সংস্কার আনা যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব ভারত ও বিশ্বের উপর কতটা পড়তে পারে, সে বিষয়েও সদস্যরা নিজেদের মতামত জানান।


পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোদীর পদক্ষেপ
এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে হল যখন বিশ্বের প্রায় সব দেশই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা এবং অসম অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সঙ্গে লড়াই করছে। গত মাসেই পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের নাগরিকদের কাছে সাতটি আবেদন রেখেছিলেন, যাতে আমদানি করা জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমে এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প গ্রহণ করে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের ওয়ার্ক ফ্রম হোমকে অগ্রাধিকার দেওয়া, জ্বালানির ব্যবহার কমানো, এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ এড়ানো, স্বদেশী পণ্য গ্রহণ, রান্নার তেলের ব্যবহার কমানো, প্রাকৃতিক চাষে ফিরে আসা এবং সোনা কেনা কমানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

জ্বালানির দামের অস্থিরতা মোকাবিলা করার জন্য, প্রধানমন্ত্রী যাতায়াতের পদ্ধতিতে বদল আনার কথা বলেন। তিনি নাগরিকদের মেট্রো ও গণপরিবহণ ব্যবহারের অনুরোধ জানান। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কারপুলিং, পণ্য পরিবহণের জন্য রেল এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলেন।
ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির রিপোর্ট
এদিকে, গত ৫ জুন প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি বাজারের প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়েছে। প্রকৃত মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যেখানে পুরো বছরের বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৭ শতাংশ।
স্থির মূল্যে প্রকৃত জিডিপি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ৮৭.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা অনুমান করা হয়েছে, যা আগের অর্থবর্ষের একই সময়ে ছিল ৮১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা। এই ত্রৈমাসিকের জন্য নমিনাল জিডিপি অনুমান করা হয়েছে ৯৪.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা, যা ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধি দেখিয়েছে।

সম্পূর্ণ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য, প্রকৃত জিডিপি ৩২৩.১২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছানোর অনুমান করা হয়েছে, যা আগের অর্থবর্ষের ২৯৯.৮৯ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় ৭.৭ শতাংশ বেশি। নমিনাল জিডিপি ৩৪৬.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা অনুমান করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮.৯ শতাংশ বেশি।
অর্থনৈতিক কার্যকলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (GVA) ২০২৬ অর্থবর্ষে ৭.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে, যেখানে নমিনাল GVA ৯.১ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। চতুর্থ ত্রৈমাসিকে, প্রকৃত GVA বৃদ্ধি ছিল ৭.৯ শতাংশ এবং নমিনাল GVA বৃদ্ধি পেয়েছে ৯.৯ শতাংশ।
তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে সেকেন্ডারি এবং টার্শিয়ারি সেক্টরই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল। ২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য, সেকেন্ডারি সেক্টর ৮.৮ শতাংশ এবং টার্শিয়ারি সেক্টর ৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। প্রাথমিক সেক্টর ৩.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল ভিত্তি ছিল কৃষি এবং মৎস্যচাষ।


