শনিবার রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) কুমারখালি, বাসন্তী ও সন্দেশখালিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে। এই সাফল্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের প্রশংসা করে বলেন, রাজ্যে শান্তি, সুরক্ষা ও গণতন্ত্র ফিরে আসবে।
পশ্চিমবঙ্গে বেআইনি অস্ত্রের একটি বড় নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্যে 'শান্তি' ও 'গণতন্ত্র' প্রতিষ্ঠা হবেই, কারণ সেই 'অন্ধকার দিন' শেষ হয়ে গেছে।

বিপুর অস্ত্র উদ্ধার
স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কুমারখালি, বাসন্তী এবং সন্দেশখালিতে অভিযান চালায়। এই অভিযানে শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে জমানো প্রচুর পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী X হ্যান্ডেলে জানান, শান্তি নষ্ট করার জন্য লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্র ও গুলি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
শুভেন্দুর বার্তা
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বড় সাফল্যের জন্য কুর্নিশ। নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) সরবেড়িয়া বাজারের কাছে কুমারখালি, বাসন্তী এবং সন্দেশখালি এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালায়। শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য লুকিয়ে রাখা প্রচুর পরিমাণে বেআইনি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।" শুভেন্দু জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের কার্যকলাপ বছরের পর বছর ধরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা সাধারণ মানুষ এবং দলীয় কর্মীদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
শুভেন্দু সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, "আগের সরকারের আমলে বছরের পর বছর ধরে এই ধরনের বেআইনি অস্ত্র মজুত করা হতো এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতে নির্মমভাবে ব্যবহার করা হতো। এই হিংসার সংস্কৃতি বহু বিরোধী দলীয় কর্মীর, বিশেষ করে বিজেপির নিষ্ঠাবান কর্মীদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, যারা অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।"
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আরও লেখেন, রাজ্যজুড়ে বেআইনি অস্ত্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শান্তি, সুরক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।
শুভেন্দু বলেন, "সেই অন্ধকার দিন শেষ। আমাদের সরকার আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিঃশর্তভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা পশ্চিমবঙ্গের কোণায় কোণায় লুকিয়ে থাকা প্রতিটি বেআইনি অস্ত্র খুঁজে বের করব এবং উদ্ধার করব। রাজ্য থেকে অপরাধমূলক কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাস পুরোপুরি মুছে ফেলা হবে। শান্তি, নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবেই।"
কোর্টে শওকত মোল্লা
অন্যদিকে, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) পশ্চিমবঙ্গের ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন, পলাতক প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে শনিবার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে। আজ পেশ করা হয় কোর্ট। কিন্তু সেখানেও মাছ আর ডিম হাতে উপস্থিত ছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা মাছ চোর আর ডিম চোর বলে শওকত মোল্লার উদ্দেশ্যে স্লোগান দেয়। ফাঁসিরও আবেদন জানায়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বোমা বানানোর সময় একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণে একজন বোমা প্রস্তুতকারকের মৃত্যু হয় এবং অন্যরা আহত হয়। NIA জানিয়েছে, লাগাতার তল্লাশির পর রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে পলাতক শওকতকে ধরা হয়েছে। এর কিছুদিন আগেই এই মামলায় আরেক অভিযুক্ত সাইনুর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
NIA-এর তদন্তে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর অভিযুক্ত সাইনুর মোল্লাই তার স্করপিও গাড়িতে করে মৃত ব্যক্তিকে এবং আহতদের নিয়ে গিয়েছিল। সে প্রথমে তাদের একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পরে অন্য একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সের হাতে তুলে দেয়। এই মামলার সঙ্গে যুক্ত অ্যাম্বুলেন্স চালককে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে আছেন। এই ঘটনার পিছনে আরও বড় কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।


