- Home
- India News
- হাওড়া-গুয়াহাটি রুটে প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেন ছুটবে, জানুয়াতিই উদ্বোধন করতে পারেন মোদী
হাওড়া-গুয়াহাটি রুটে প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেন ছুটবে, জানুয়াতিই উদ্বোধন করতে পারেন মোদী
Vande Bharat train: প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন হাওড়া- গুয়াহাটি মধ্যে চলাচল করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানুয়ারি মাসেই এই ট্রেনের উদ্বোধন করতে পারেনন। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ঘোষণা করেছেন এবং ভাড়ার বিবরণও জানিয়েছেন।

প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেনের উদ্বোধন
সরকার বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ট্রায়াল, টেস্টিং এবং সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করেছে এবং প্রথম রুট হিসেবে গুয়াহাটি ও কলকাতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতিবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ঘোষণা করেন। এক সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শীঘ্রই প্রথম স্লিপার ট্রেনটির উদ্বোধন করবেন। সম্ভবত জানুয়ারির মাঝামাঝি ট্রেনটির উদ্বোধন হবে।
তিনি বলেন, "অনেকদিন ধরেই নতুন প্রজন্মের ট্রেনের চাহিদা ছিল। বন্দে ভারত চেয়ার কার ভারতীয় রেলে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। মানুষ এটা খুব পছন্দ করতে শুরু করেছে। দেশের সব প্রান্ত থেকে বন্দে ভারত ট্রেন চালানোর দাবি আসছে।"
স্লিপার বন্দে ভারত
রেল মন্ত্রী আরও বলেন, "হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরপাল্লার যাত্রার কথা মাথায় রেখে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন ডিজাইন করা হয়েছে। এই ট্রেনটি দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য একটি দ্রুত, আরামদায়ক এবং আধুনিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেবে। বন্দে ভারত স্লিপারে উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত সাসপেনশন সিস্টেম এবং বিশ্বমানের স্লিপার কোচ রয়েছে যা রাতের যাত্রাকে আরও সুবিধাজনক করে তুলবে।"
স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেনের ভাড়া
রেলমন্ত্রী জানান, গুয়াহাটি-হাওড়া রুটের ভাড়া প্রায় ২৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "সাধারণত গুয়াহাটি-হাওড়া রুটে বিমানের ভাড়া ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে থাকে এবং কখনও কখনও তা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। বন্দে ভারত স্লিপারে গুয়াহাটি থেকে হাওড়া পর্যন্ত ৩এসি ভাড়া প্রায় ২,৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য বেশ সাশ্রয়ী। এদিকে, ২এসি ভাড়া হবে প্রায় ৩,০০০ টাকা। এছাড়াও, মধ্যবিত্তদের কথা মাথায় রেখে, ফার্স্ট এসি-র ভাড়া প্রায় ৩,৬০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।"
২০২৬-এ ১২টি বন্দে ভারত
বৈষ্ণবের মতে, এই বছরের শেষের মধ্যে প্রায় ১২টি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন তৈরি হয়ে যাবে এবং রেল নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত হবে। এরপর, আগামী বছর দ্রুত এর সম্প্রসারণ করা হবে। ভারতীয় রেল কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি (CRS)-এর তত্ত্বাবধানে দেশে ডিজাইন ও তৈরি করা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের চূড়ান্ত হাই-স্পিড ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। কোটা-নাগদা সেকশনে এই ট্রায়াল চালানো হয়, যেখানে ট্রেনটি সর্বোচ্চ ১৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতি অর্জন করে, যা ভারতের উন্নত ও আত্মনির্ভর রেল প্রযুক্তির যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বন্দে ভারতের ট্রায়াল রান
ট্রায়ালের সময়, রাইড স্টেবিলিটি, দোলন, কম্পন, ব্রেকিং পারফরম্যান্স, ইমার্জেন্সি ব্রেকিং সিস্টেম, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারের মূল্যায়ন সহ ব্যাপক প্রযুক্তিগত পরীক্ষা করা হয়। উচ্চ গতিতে ট্রেনের পারফরম্যান্স সম্পূর্ণ সন্তোষজনক পাওয়া গেছে এবং সিআরএস দ্বারা ট্রায়ালটিকে সফল ঘোষণা করা হয়েছে।
অশ্বিনী বৈষ্ণব এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাই-স্পিড ট্রায়ালের একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে কোটা-নাগদা সেকশনে ১৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সফল সিআরএস ট্রায়ালের কথা তুলে ধরা হয়। ভিডিওটিতে একটি ওয়াটার-গ্লাস স্টেবিলিটি ডেমোনস্ট্রেশনও দেখানো হয়, যেখানে উচ্চ গতিতেও জল ভর্তি গ্লাস ছলকে না পড়ে স্থির ছিল, যা এই নতুন প্রজন্মের ট্রেনের উন্নত রাইড কোয়ালিটি, উন্নত সাসপেনশন এবং প্রযুক্তিগত দৃঢ়তাকে তুলে ধরে।
ট্রায়ালে ব্যবহৃত ১৬ কোচের বন্দে ভারত স্লিপার রেকটি দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এতে অত্যাধুনিক যাত্রী সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরামদায়ক স্লিপার বার্থ, উন্নত সাসপেনশন সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় দরজা, আধুনিক টয়লেট, ফায়ার ডিটেকশন ও সেফটি মনিটরিং সিস্টেম, সিসিটিভি-ভিত্তিক নজরদারি, ডিজিটাল প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম এবং শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি। এই বৈশিষ্ট্যগুলির লক্ষ্য যাত্রীদের একটি নিরাপদ, আরামদায়ক এবং বিশ্বমানের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রদান করা।
যাত্রী সুরক্ষায় জোর
বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে যে সব প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেগুলি হল: 'কবচ' সুরক্ষা ব্যবস্থা; ক্র্যাশপ্রুফ এবং ঝাঁকুনি-মুক্ত সেমি-পার্মানেন্ট কাপলার এবং অ্যান্টি-ক্লাইম্বার; প্রতিটি কোচের শেষে ফায়ার ব্যারিয়ার দরজা; ইলেকট্রিক্যাল ক্যাবিনেট এবং শৌচাগারে উন্নত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে অ্যারোসল-ভিত্তিক ফায়ার ডিটেকশন এবং সাপ্রেশন সিস্টেম; শক্তি সাশ্রয়ের জন্য রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম; দেশীয়ভাবে তৈরি UV-C ল্যাম্প-ভিত্তিক জীবাণুনাশক সিস্টেম সহ এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিট; কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় প্লাগ ডোর এবং সম্পূর্ণ সিল করা চওড়া গ্যাংওয়ে; সব কোচে সিসিটিভি; জরুরি অবস্থায় যাত্রী এবং ট্রেন ম্যানেজার/লোকোপাইলটের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ইমার্জেন্সি টক-ব্যাক ইউনিট; দিব্যাঙ্গজন যাত্রীদের জন্য প্রতিটি প্রান্তের ড্রাইভিং কোচে বিশেষ শৌচাগার; এয়ার কন্ডিশনিং, স্যালুন লাইটিং ইত্যাদির মতো যাত্রী সুবিধার উন্নত পর্যবেক্ষণের জন্য সেন্ট্রালাইজড কোচ মনিটরিং সিস্টেম; এবং উপরের বার্থে সহজে ওঠার জন্য আর্গোনোমিকভাবে ডিজাইন করা মই।
সিআরএস হাই-স্পিড ট্রায়ালের সফল সমাপ্তি একটি বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য এবং এটি বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা চালুর পথ প্রশস্ত করেছে। এই উন্নয়ন 'আত্মনির্ভর ভারত' দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে ভারতীয় রেলের উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং দেশীয় রেল উৎপাদনের অগ্রগতির প্রতি দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরে।

