সুইডেনের গোটেনবার্গে পৌঁছতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জমকালো স্বাগত জানাল প্রবাসী ভারতীয়রা। হোটেলের সামনে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতি তুলে ধরে নাচ-গানের আয়োজন করা হয়। 

সুইডেনের শিল্পনগরী গোটেনবার্গে পা রাখতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ঘিরে ধরল এক টুকরো ভারত। হোটেলের সামনে তাঁকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এই উষ্ণ অভ্যর্থনায় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মহিলারা আরতির ঢঙে ক্লাসিক্যাল ও লোকনৃত্য পরিবেশন করেন। হাতে ভারতের তেরঙা পতাকা নিয়ে বহু প্রবাসী ভারতীয় স্লোগান দিচ্ছিলেন। সব মিলিয়ে সুইডেনের মাটিতে যেন এক উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সুইডেনে মোদী

কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকা প্রধানমন্ত্রী মোদীও এই অভ্যর্থনা দেখে বেশ খুশি হন। তিনি শিল্পীদের নমস্কার করে অভিবাদন জানান। এই অনুষ্ঠানটি সুইডেনে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়দের শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক ঝলক তুলে ধরেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সুইডেন সফরের আগে একটি রঙিন সূচনা ছিল।

নিবেদিতা নামে সুইডেনে বসবাসকারী এক প্রবাসী ভারতীয় নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "আমরা সুইডেনে থেকেও নিজেদের সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করি। ওঁর (মোদী) সঙ্গে দেখা হওয়াটা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। উনি যখন আমাদের সঙ্গে বাংলায় কথা বললেন... আমরা ওঁর ঐতিহাসিক জয়ের জন্য ওঁকে শুভেচ্ছা জানাই... আমরা সব অনাবাসী ভারতীয়, বাঙালিরা এখান থেকে ওঁকে সমর্থন করি। ওঁকে এখানে পাওয়াটা আমাদের কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।"

শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী যে হোটেলে থাকছেন, সেখানে তাঁর জন্য ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় নাচ এবং একটি অর্কেস্ট্রারও আয়োজন করা হয়েছিল।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং নেদারল্যান্ডসে সফর শেষ করে পাঁচ দেশের সফরের অংশ হিসেবে সুইডেনে এসেছেন মোদী। গোটেনবার্গে তিনি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়াও বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মতো বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে সেখানকার শীর্ষ শিল্পপতিদের সঙ্গেও তাঁর কথা বলার কথা।

সুইডেনে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায় এই সফর নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহিত। বিশেষ করে গোটেনবার্গ প্রবাসী ভারতীয়দের অন্যতম কেন্দ্র এবং শিল্প উদ্ভাবনের একটি গ্লোবাল হাব হিসেবে পরিচিত। এই সাংস্কৃতিক অভ্যর্থনা ভারত-সুইডেন কৌশলগত সম্পর্কের মূলে থাকা মজবুত গণসম্পর্কেরই প্রতিফলন।