নবরাত্রির উপবাস চলছে তাঁর। সেই অবস্থাতেই সোমবার সারাদিন করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় ব্যস্ত রইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সকালে দেশ জুড়ে চলা টিকাকরণ কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। দেশের টিকাকরণ ব্যবস্থা নিয়ে চলে বৈঠক। এই বৈঠকে ছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। 

করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে চলা বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এই আলোচনায় ছিলেন বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবার থেকে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচার কর্মসূচিতে ৫০০ জনের বেশি লোক থাকবেন না। তাঁরা প্রত্যেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন। মাস্ক পরা থেকে করোনা বিধি মেনেই প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।  

আরও পড়ুন - করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ-এ বিশাল ঘোষণা মোদীর, ১৮ বছর বয়স হলে ১ মে থেকে ভ্যাকসিন

সোমবার বিকেলে দেশের নামকরা চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।  ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক চলে। এর পরেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের নামকরা ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী। আরেকটি বৈঠকে তিনি খতিয়ে দেখেন দেশের বিভিন্ন কোভিড হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ ও অক্সিজেন সরবরাহের বিষয়টি। 

দেশের করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে তুল্যমূল্য বিচার চলে করোনা মোকাবিলার পরিকাঠামো নিয়ে। পরিকাঠামোর উন্নয়ন কীভাবে ঘটানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা চলে। এদিকে, রাজধানী দিল্লি জুড়ে একদিকে যেমন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, তেমনই ক্রমশ কমছে শয্যার সংখ্যা। এর জেরে রীতিমত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগিদের। দিল্লি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শয্যার অপ্রতুলতাকে সামাল দিতে তাই নয়া পদ্ধতি অবলম্বন করতে হচ্ছে। 

দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার জানিয়েছে শহরের সরকারি স্কুলগুলিকে কোভিড হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হবে। সেখানে থাকবে অক্সিজেন বেড, ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা। থাকছে আইসিইউ-র ব্যবস্থাও। এতে কিছুটা সুরাহা হবে শয্যা সমস্যার। ইতিমধ্যেই দীন দয়াল উপাধ্যায় মার্গের বেশ কয়েকটি সরকারি স্কুলকে করোনা আক্রান্ত রোগিদের জন্য হাসপাতাল হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।  

আরও পড়ুন - করোনার থাবা এবার মনমোহনের উপরে, দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর টুইট

ভারতের করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ চোখ রাঙাচ্ছে। ক্রমশ বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুর হার। মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, কর্ণাটক, কেরল, ছত্তিসগড়, মধ্য প্রদেশ, তামিলনাড়ু, রাজস্থান এবং গুজরাটে ১০ হাজারেরও বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছে। ভারতে এখনও পর্যন্ত ১,৫০,৫৭,৭৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২,৭৪,৯৪৪ টি নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ১,৭৮,৭৯৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন করোনায়। একদিনে মারা গিয়েছেন ১,৬২০ জন।  উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘন্টায় গোটা দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৬১৯ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা ২লক্ষ ৭৩ হাজার ৮১০জন।