দেশে বেড়ে চলা করোনা সংক্রমণের মধ্যে লাদাখ সীমান্ত নিয়ে চিনের সঙ্গে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। যা চরমে পৌঁছেছে সোমবার রাতে। এরপর মঙ্গলবার দিনভার তৎপরতা চোখে পড়েছে ভারত সরকারের। দফার দফায় তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। যদিও মঙ্গলবার কোনও মন্ত্রীই এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেননি। ঐদির রাতেই  ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ৪ মন্ত্রীকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লাদাখে সীমান্তে চিনের সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পর বর্তমানে সীমান্তের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। 

আরও পড়ুন: চিনের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ না আপস, পরিকল্পনা সাজাতে ১৯ জুন সর্বদল বৈঠক ডাকলেন মোদী

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারমণ। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনার চিফ জেনারেল এমএম নারাভানে। এর পরেই বুধবার দুপুরে আগামী ১৯ জুন প্রধানমন্ত্রীর সর্বদল বৈঠকের ঘোষণা করা পিএমওর তরফ থেকে। এর আগে অবশ্য  চিনা হামলার পরেও মোদী সরকারের মৌনতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলচ্ছিল বিরোধী শিবির।

এদিকে বুধবার ছিল নোভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ভার্য়ুয়াল বৈঠকের দ্বিতীয় দিন। এই বৈঠকেই প্রথম চিন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভারত শান্তি চায়, কিন্তু উস্কানি দিলে পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, যোগ্য জবাব দেওয়ার শক্তি তার আছে। 

 

পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সোমবার রাতে ভারত ও চিনা সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে কম পক্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা জওয়ানের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে মুখ খুলে কড়া বার্তা দিতেই এদিন দেখা গেছে মোদীকে।  চিনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অখন্ডতার প্রশ্নে কোনও আপস-সমঝোতা নয়। সীমান্তে ভারতীয় জওয়ানরা মারতে মারতে মরেছেন বলে অভিমত জানিয়ে তিনি বলেন, ওঁদের প্রণাম। ওঁদের বলিদান ব্যর্থ হবে না।

আরও পড়ুুন: ভারত-চিন উত্তেজনা বাড়তেই ফের সক্রিয় ট্রাম্প, শহিদ জওয়ানদের জন্য শোকপ্রকাশ আমেরিকার

 যে কোনও পরিস্থিতিতে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারির পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘‘আমাদের বীর শহিদ জওয়ানদের বিষয়ে দেশবাসী গর্ব করতে পারে যে, তাঁরা মারতে মারতে মরেছেন।’’ দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যে কোনও বোঝাপড়ার প্রশ্ন নেই, সে কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের অখণ্ডতা আমাদের কাছে সবার উপরে। তা নিয়ে কোনও সমঝোতা করা হবে না।’’

১৫ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠক শুরুর আগে সোমবারের ঘটনায় শহিদ জওয়ানদের প্রতি ২ মিনিট নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানান হয়। এদিকে লাদাখে চিনা সৈনিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ ভারতীয় জওয়ানদের শহিদ হওয়ার ঘটনায় আগেই প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এবার  চিনের সীমান্তের পরিস্থিতি কী অবস্থায় রয়েছে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী।

 

কেন দেশের ২০ জন জওয়ানকে শহিদ হতে হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। পাশাপাশি ভারতীয় সেনাদের কতজন আহত ও নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন তার তালিকাও চেয়েছেন সনিয়া গান্ধী।